সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হরতাল মানি আমাদের মত গরীবের পেটে লাথি মারা!



মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ : হরতাল তাই কাজে যেতে পারিনি। ঠিকমত ঘরে নেই খাবার। হরতাল মানি আমাদের মত গরীবের পেটে লাথি মারা। পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছি বিপাকে। টানা তিন দিনের হরতাল। না খেয়ে থাকতে হবে। গতকাল সকালে কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে পায়ে হেটে উপজেলা সদরের এসেছে দিনমজুর মনির মিয়া। স্থানীয় বাসিয়া ব্রীজের উত্তর পাশে বসে তিনি এ প্রতিবেদক কে এসব কথাগুলো বলেন।তিনি বলেন, নিজ বাড়ি থেকে সকাল ৮টায় জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর এলাকায় কাজের যাওয়া জন্য বের হন। প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে উপজেলা সদরের এসেছেন। কিন্তু মিরপুর যাওয়ার জন্য অনেক অপেক্ষা করে বাস গাড়ি পাচ্ছি না। বাস গাড়ি চলাচল না করায় অটোরিক্সা গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য কাজে যেতে পারছেন না। ফলে রয়েছি বিপাকে। মনির মিয়ার মত উপজেলায় এভাবে আরোও অনেকে রয়েছে বিপাকে।
জানাযায়, একের পর এক হরতাল দূর্ভোগে ফেলেছে নিম্ম আয়ের মানুষের জীবন। দিনমজুর লোকগুলো কাজে যেতে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। হরতাল ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্ত মানুষের মাঝে। সিলেটের ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যখান থেকে এখন পর্যন্ত ১০ দিন পূর্ণ দিবস ও একদিন অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। গতকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে টানা তিন দিনের হরতাল। যার ফলে চরম দূর্ভোগে পড়তে হবে দিনমজুর মানুষগুলোকে।
দিনমজুর পরিবারের কয়েকজন জানান, প্রতিদিনের কাজের টাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হয়। কাজ করলে ঘরে খাবার আসে। কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হয়। আমাদের মত লোকজনের টাকা জমানোর কোন সুযোগ নেই। ঘন ঘন হরতালের ফলে ঠিকমত কাজ পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে সারাদিন ঘরে বসে সময় কাটাতে হয়। টানা তিনদিনের হরতালের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছি বিপাকে।
তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল না দেওয়ার জন্য আহবান জানান।
উপজেলা সদরের রিক্সা চালক আবুল মিয়া বলেন, হরতাল হলে যাত্রীর সংখ্যা কমে যায়। ফলে সারাদিনে একশত টাকা রুজি করতে কষ্ট হয়। কিন্তু আট সদস্য পরিবার নিয়ে দুঃচিন্তা রয়েছি।
অপর রিক্সা চালক দিলবর আলী বলেন, রিক্সা চালিয়ে সাত সদস্য পরিবার চলে। একদিন রুজি না করলে না খেয়ে থাকতে হয়। সকালে গাড়িনি বের হয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত (বেলা ২টা) কোন রুজি হয়নি। রাতে কি খাব এনে চিন্তা আছি।
ভ্যান চালক সিরাজ মিয়া বলেন, ভয়ের মধ্যে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। গতকাল টাকা রুজি করতে না পারায় তিশ টাকা কলোনির মালিকের কাজ থেকে তিনশত টাকা ধার এনেছি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত