শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মাফিয়া চক্রের হাতে তুরস্কে জিম্মী জুড়ীর কাশেম



Juri Kashemমৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : জীবিকার সন্ধানে জায়গা বিক্রি করে আরব আমিরাতের কালবা গিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও গ্রামের আয়েব আলীর পুত্র আবুল কাশেম (৩৫)। পেটে-ভাতে দুই বছর থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। বাড়িতে ৪ মাস থাকার পর আবারও কালবা যান। দুঃখ-কষ্টের এমনি সময়ে স্বদেশি কয়েকজন দালাল তাকে বিলাসী জীবন ও বিপুল আয়-রোজগারের লোভ দেখিয়ে গ্রীস যাবার প্রসত্মাব দেয়। তিন লাখ টাকার চুক্তি হয়। তাও গ্রীস গিয়ে রোজগার করে টাকা পরিশোধ করা-এমন সহজ শর্তে উন্নত জীবন গঠনের স্বপ্নে বিভোর কাশেম রাজি হয়ে যান। এক পর্যায়ে তাকে তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গোপন আসত্মানায় কাশেমকে জিম্মী করে ফেলে আনত্মর্জাতিক মাফিয়া চক্র। একে একে পাঁচজন বাংলাদেশীকে সেখানে নিয়ে জিম্মী করে রাখে বাংলাদেশী দালালরা অমানুষিক নির্যাতন শুরম্ন করে এবং মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ০০৯৮৯১০৯৩১৯৫৩৭ এই নম্বর থেকে কাশেমের বাড়িতে ফোন করে নির্যাতন-কান্নার শব্দ শুনিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। নতুবা কাশেমের কিডনি বিক্রি এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। দর কষাকষির এক পর্যায়ে আড়াই লাখ টাকায় কাশেমের মুক্তির ফয়সালা হয় এবং টাকা পাঠানোর পথও বাতলে দেয় দালালচক্র। দালালদের কথা মতো কাশেমের পরিবার জায়গা বিক্রি, ধারকর্য ও সুদের উপর টাকা এনে গত ১০  ফেব্রম্নয়ারি ইসলামী ব্যাংক কুলাউড়া শাখা থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর শাখায় শ্রীনগর উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফয়েনপুর গ্রামের ছিদ্দিক শেখের পুত্র জলিল শেখের ৪০০৭ নং হিসাব নম্বরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জলিলের ভাই বাবুল শেখের ৫৩৮ নং হিসাবে ১৩ ফেব্রম্নয়ারি আরও ১ লাখ টাকা পাঠানো হয়। জলিল শেখ ০১৬৭৩৩৭৬৮৫০ এবং বাবুল শেখ ০১৮১৯৪৭১০৭৪ নম্বরের মোবাইল ফোন থেকে টাকা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে। আড়াই লাখ টাকা পাঠানোর পরও প্রতারকচক্র কাশেমকে মুক্তি না দিয়ে নতুন করে আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
কাশেমের ভাই মহরম আলী অভিযোগ করে শুক্রবার দুপুরে জানান, তার ভাইয়ের মুক্তির জন্য সরকারের হসত্মক্ষেপ কামনা করেন। কাশেম জিম্মীর ঘটনায় তার বাবা-মা, ভাই, স্ত্রী-সনত্মানদের কান্না থামছেই না। পরিবারের সদস্যরা কাশেমের মুক্তি দাবি করেন। সেইসাথে দালালচক্রের বিরম্নদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে একই চক্রের হাতে জিম্মী কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজুমের আসহাব উদ্দিনের ভাই ছমি উদ্দিন তিনজনকে আসামী করে গত ৮ মার্চ মহেশখালী থানায় মানবপাচারের একটি মামলা (নং-৮/২০১৩) দায়ের করলে অফিসার ইনচার্জের অনুরোধে শ্রীনগর থানা পুলিশ গত ১২ মার্চ দুপুর ১টায় প্রতারক চক্রের সদস্য প্রধান জলিল শেখকে শ্রীনগর শাখা ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রেপ্তার করে। উক্ত শাখার হিসাবমতে গত বছরের ডিসেম্বর  থেকে এ পর্যনত্ম মুক্তিপণ বাবদ জমা হওয়া ২৮ লাখ টাকা জলিল শেখ হাতিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
এছাড়াও দালালচক্রের খপ্পড়ে পড়ে গ্রীস যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে বাংলাদেশি আরো শতাধিক যুবক দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে বলে বিদেশে অবস্থানরত একটি সূত্র জানিয়েছে। তন্মধ্যে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৮ জন যুবক রয়েছে। তন্মধ্যে কোনমতে বাড়ি পৌছেছেন কাশেম নামের বড়লেখার তালিমপুরের এক যুবক।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত