শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সর্বজনগ্রাহ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি



image_17645_0েডস্ক িরেপার্ট : বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদে কে যাবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সবখানেই চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলছেন, তারা প্রত্যাশা করেন মহাজোট সরকার দলীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে জাতীয় স্বার্থে এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করবেন যিনি মোটামুটিভাবে হলেও জনগণ তথা সব দল ও মতের আস্থাভাজন হবেন। এদিকে, রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এখনই কোনো ভাবনা না থাকলেও তারা বলছে, এমন একজনকে এই পদে নির্বাচন করা হবে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন এবং সংকটে নিজের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে পদটি শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার কথা। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে এই নির্বাচন হয় এবং তফসিল ঘোষণাসহ এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু সংসদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে তারা যাকে মনোনয়ন দেবে তাকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করতে পারবে। যদিও বাংলাদেশে এখন তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, তারপরও রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। আর এর অন্যতম কারণ যিনি এবারে রাষ্ট্রপতি হবেন তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়েও দায়িত্বে থাকবেন। বর্তমানে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন:প্রবর্তন করে নির্বাচন আয়োজন-সহ বেশ কিছু দাবিতে আন্দোলন করছে।
দলটির একজন জেষ্ঠ্য নেতা এবং কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “যেহেতু, বাংলাদেশে সামনে নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা আছে, আমি সেটাকে একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট মনে করি। এখন যদি রাষ্ট্রপতি পদে কট্টর দলীয় প্রার্থী যদি নির্বাচিত করে মহাজোট, তাহলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।”
তবে এর পাশাপাশি তিনি আরো মনে করেন, “নির্বাচনের সময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। সেই মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, বা সম্পূর্ণ গ্রহনযোগ্য না হলেও সব দলের তার ওপর একটা আস্থা থাকে – এমন একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা সম্ভব হলে সামনে যে সংকট আছে সেগুলো কিন্তু সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব।”
বিএনপি-র এই নেতা বলছেন, তারা প্রত্যাশা করেন মহাজোট সরকার দলীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে জাতীয় স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে চলমান রাখার স্বার্থে মোটামুটিভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকেই নির্বাচিত করবেন।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট ভাবনা না থাকলেও তারা বলছে, এমন একজনকে এই পদে নির্বাচন করা হবে যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের কথায়, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময়ই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যাক্তিকে এই পদে নির্বাচন করতে চায়। আমরা এমনটাই করেছিলাম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সাহেবকে নির্বাচিত করে, আর আগামী দিনেও সেরকমই হবে।”
তবে তিনি সেই সঙ্গেই জানান, গত দুতিনদিন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির শেষকৃত্য নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যস্ত ছিল। শনিবার পর্যন্ত চলবে রাষ্ট্রীয় শোক। এই শোকদিবস পার হবার পরই কেবল পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে তারা ভাববেন, আলোচনা করবেন এবং এরপর তা নিয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হবে।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলছেন, “কে রাষ্ট্রপতি হবেন এটা আমরা এ মুহুর্তে ভাবছি না। তবে যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, দেশের কোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা বা সক্ষমতা যার আছে তাকেই নির্বাচিত করা হবে।” “দেশের গুরুদায়িত্ব এমন কোনও ব্যক্তির কাছে আমরা দিতে চাইনা যিনি সংকটময় মুহুর্তে তার অবস্থান নিতে ব্যর্থ হবেন। এমন কাউকে আমরা নিশ্চই ক্ষমতা দেবো না”, বিবিসিকে বলেন মি হানিফ। তবে অন্যদিকে, মোশারফ হোসেন বলেন, সংসদে বিএনপি-র প্রতিনিধি মাত্র ৩৩ জন হওয়ায় তাদের এই নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই এবং তারা বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরাম কিংবা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা করেননি।
কিন্তু দেশের সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার যদি ইচ্ছা পোষণ করেন যে, এ বিষয়ে তারা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তখনই কেবল তাদের তাহলে চিন্তা করার সুযোগ আসবে, বলছিলেন মোশারফ হোসেন।
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ৮৪ বছর বয়সে বুধবার মারা যান। সূত্র: বিবিসি

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত