বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন : সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই পুলিশ দিয়ে হত্যা করে মানুষ



বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : বিশ্বনাথে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। আজ শনিবার বিকেল ৫ টায় দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. গৌছ খান। তিনি বলেন, দেশ আজ চরম ক্রানিত্মকাল অতিক্রম করছে। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার দেশে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দকে নির্বিচারে হত্যা করছে। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। চালানো হচ্ছে বাকশাল প্রতিষ্টার চেষ্টা। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায়না। গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, এ এলাকার সাবেক সফল সাংসদ এম. ইলিয়াস আলীকে ঢাকা থেকে গুম করে। তার সন্ধান দিতে ব্যর্থ এ সরকার। তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে প্রান হারায় যুবদলের তিন কর্মি সেলিম, মনোয়ার, জাকির। পুলিশ ও উপজেলা প্রসাশন উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ওপর ছয়টি মামলা করা হয়। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্ত্রি যা কোন সভ্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। কিন্তু আজও ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়ি চালক আনসার আলীর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরোও বলেন, গত ১৯ মার্চ সিলেটে মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে হরতাল আহবান করে জামায়াত। হরতালের সমর্থনে বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াত-শিবির মিছিল বের করলে সেই মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় জামায়াত কর্মী গোলাম রব্বনী। এই হত্যাকান্ডের দায় বিভিন্ন পত্রিকায় পুলিশ স্বীকার করেছে। অথচ এই হত্যাকান্ডের জন্য নিরিহ লোকজনসহ জামায়াতের দুইশত নেতাকর্মীকে আসামী করে পুলিশ মামলা করে। আর এই মিথ্যা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লামাকাজি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্ঠার রইছ উদ্দিনকে আসামী করা হয়। রইছ উদ্দিন মাষ্টার একজন নম্র, ভদ্র মানুষ হিসেবে এলাকায় সু-পরিচিত এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাকে হয়রানি করার জন্য মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মামলা থেকে রইছউদ্দিনকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য প্রসাশনের প্রতি জোরদাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, দেশে আজ লুঠ পাঠ চলছে। কোথাও কোন উন্নয়ন নেই। বর্তমান সাংসদ শফিকুর রহমান একজন ব্যর্থ এমপি। বিশ্বনাথে কোথাও এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের ক্ষমতা তাঁর নেই। ইলিয়াস আলী উন্নয়নের নেইম প্লেইট গুলো ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপির ইন্ধনে। বিশ্বনাথের মধ্য দিয়ে একটি মাত্র নদী। সে নদীর দুই তীর আওয়ামীলীগ নেতারা অবৈধ্যভাবে দখল করে নিয়েছে।
গৌছ খান বলেন, দেশে আজ গণ হত্যা চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে পুলিশ দিয়ে হত্যা করে মানুষ। স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ আজ নেই। দেশ প্রেমিক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানসহ দেশে নিরিহ জনসাধারণের আজ নিরাপত্তা নেই। খুনি শেখ হাসিনার হাত আজ বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের রক্তে রঞ্জিত। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক, রিজভী আহমদ, আমানউল্লাহ আমানসহ অনেক নেতৃবৃন্দরকে বন্দী করে রেখেছে স্বৈরাচারী সরকার। তারি ধারাবাহিকতায় বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মরি ওপর চলছে ধমন, নিপীড়ন। অন্যায়ভাবে পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে হয়রানি করা হচ্ছে। শান্তি পূর্ণ মিছিল করতে পুলিশ এতে বাধা দেয়। কখনও বিএনপি অফিস থেকে নেতাকর্মীকে বের হতে দেয়না। পুলিশ ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবর্তীণ এমন অবস্থা থেকে জাতি আজ মুক্তি চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়ি চালক আনসার আলীকে অবিলম্ভে যেন ফেরত দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়া চেয়ারম্যান,বিএনপি নেতা আব্বাস আলী চেয়ারম্যান, তাহিদ মিয়া চেয়ারম্যান প্রমূখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত