রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বর্তমান সরকারের উদ্যোগেই পদ্মা সেতু নির্মিত হোক এটাই জাতির প্রত্যাশা



padma-bridgeআবদুল জব্বার
চলতি মাসের মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করলে বিকল্প ব্যবস্থায় সেতু তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুতে নানা জটিলতা তৈরী করলেও এর কাজ থেমে নেই। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, যেহেতু বর্তমান সরকার ও কাজ শুরু করেছেন তা শেষও করা হবে। গত ২৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র থাকা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, আগামী নির্বাচন, নির্বাচনী পদ্ধতি, বিরোধী দলের অবস্থান, ছাত্রলীগের কর্মকান্ড এবং পররাষ্ট্র নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ছাত্রলীগের নানা কর্মকান্ড সম্পর্কে তিনি বলেছেন, দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নয় যারা সব সময় ‘পার্মানেন্ট পার্টির’ সঙ্গে যুক্ত হয় তারাই নানা অপকর্ম করছে। তবে যেখানে ঘটনা ঘটছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৫ শতাধিক গ্রেপ্তার আছে। অপকর্ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পদ্মা সেতু সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি নয়, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের যে ফর্মূলা বের করা হয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে কোনো কাজ করা যাবে না। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে কাজ বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর ভুমি অধিগ্রহণ, অ্যাপ্রোচ রোড তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ চলছে।
আগামী নির্বাচন পদ্ধতি এবং বিরোধী দলকে সংসদে যোগদান সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও আগামীতে সেভাবে নির্বাচন হবে। ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। তারপরও বিরোধী দলের কিছু বলার বা কোন প্রস্তাব থাকলে তারা সংসদে আসুক। আমরা আলাপ করতে পারি। শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন তখন তাকে সংসদে কথা বলতে দেয়া না হলেও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে এলে ইচ্ছামতো কথা বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ৪ বছরে স্থানীয় সরকার, উপনির্বাচন মেয়র ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৫ হাজার ৫৯টি নির্বাচন হয়েছে। একটি নির্বাচন নিয়েও কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। সাংবাদিকরা নেতিবাচক কিছু লিখতে পারেনি। স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এর পরও কি বলা যাবে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়? সরকার পলিসি শিফট করে বা কোন বলয়ে যুক্ত হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র কেনাসহ অন্যান্য চুক্তি করেছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেছেন, পলিসি শিফট করে রাশিয়ার সঙ্গে কিছু হয় নি। রাশিয়া আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র সবার সঙ্গে বন্ধুত, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সহযোগিতা করেছে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে না?
রাশিয়া সফর প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য দানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, সফরকালের বাংলাদেশ রাশিয়া যৌথ কমিশন গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এই কমিশন উভয় দেশের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নির্ধারণ করবে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে সমন্বয় করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে একটি আইনি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। মে মাসের মধ্যে ডিজাইন এবং আগস্টের মধ্যে নির্মাণ এলাকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে মূল নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি পারমাণবিক চুল্লির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এজন্য পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চুল্লিতে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন বাংলাদেশের স্বার্থ অটুট রেখে সরকার রাশিয়ার সঙ্গে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।
বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন ডাকসাইটে প্রেসিডেন্ট রবার্ট এস ম্যাকনামারা ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সফরে এলে তার সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা দেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি ছিল সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সে সময়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ নুরুল ইসলাম তার ‘মেকিং অব অ্যা নেশন’ বইতে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। গত বছরে ১ জুলাই রাতে একটি টেলিভিশন টক শোতে প্রসঙ্গটির সূত্র ধরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সাবেক ক্যাবিনেট ও অর্থসচিব আকবর আলী খান বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের আধিপত্য অস্বীকার করার জন্য নেতৃত্বের দৃঢ়তা দরকার। ম্যাকনামারাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তাবেও রাজি হননি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পূনর্গঠনের জন্য তখন ৩০০ কোটি (তিন বিলিয়ন) ডলারের প্রয়োজন ছিল। সেই নিঃস্ব অসহায় অবস্থায়ও যুদ্ধজয়ী স্বাধীন একটি দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের ও দেশের মর্যাদার কথা মাথায় রেখেছিলেন জাতীয় বীর তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশের অর্থনীতি অনেক দুর এগিয়েছে। আর ততটাই পিছিয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মর্যাদাবোধ। নামসর্বস্ব গভর্নর হিসেবে প্রতিবছর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে হাজির হয়ে সাহায্যের জন্য হাত পাতা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীদের অন্যতম নির্ধারিত কাজ। দেশে ফিরে এসে অবশ্য প্রয়াত দুই অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এ এম এস কিবরিয়া বলতেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিদেশে যেতে ভালো লাগে না। তবু এ কাজটি থেকে কোন অর্থমন্ত্রীই বিরত থাকেননি। অবসর গ্রহণের পর অর্থনৈতিক আমলারা টিভি টক শোতে যতটা জোরের সঙ্গে কথা বলে সহজে সব দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দেন। চাকরিতে থাকাকালে তাদের বেশির ভাগই নিয়মসিদ্ধ ও বিধিবদ্ধ কাজের বাইরে যাননি। সাবেক এক অর্থনৈতিক আমলা তার ইআরডিতে (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেছেন, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন কোন ব্যক্তির পক্ষে ইআরডিতে বেশি দিন কাজ করা সম্ভব নয়। এখানকার কাজ মূলত কোট-টাই পরে ভিক্ষা করা। তার আত্মগ্লানি ছিল। তবে অনেকের কাছেই ইআরডির চাকরি থাকাকালীন ওয়াশিংটনে বা ম্যানিলায় পোস্টিং পাওয়া যায়, অবসর জীবনে কনসালট্যান্সির পথ প্রশস্ত হয়। বিশ্বব্যাংক বা এডিবির সদর দপ্তরে বিকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকেন চাকরিরত অর্থসচিবরাও। বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন অনেক অর্থনীতিবিদ। তারা মূলত ভারতীয় কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে সেখানে কাজ করেন।

বিশ্বব্যাংকে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির সদর দপ্তরে জি-হুজুরদের (ইয়েস ম্যান, ইয়েস ওয়ম্যান) দৌরাত্ম্য, সেখানে ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। কথা বললে যদি নিজের দেশে ফেরত যেতে হয়, সে ভয়ে নানা অনিয়ম অসংগতি দেখেও চুপ করে থাকেন তারা। এসব অর্থনৈতিক আমলাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করেন দেশের অর্থনৈতিক নীতি। অবসরে যাওয়ার পরও তারা সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে এ ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন যে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা ছাড়া কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব সংস্থাকে উপেক্ষা করলে বাংলাদেশ একঘরে হয়ে যাবে। এতে বিভ্রান্ত হন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। দেশের অর্থনীতির ভিত যে অনেক শক্ত, নির্মাণ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়েছে সেটা তারা ভুলে যান। এখন দেশে বড় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মতো সক্ষমতা বেসরকারি খাতেও সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঘটা করে যে পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করেছে, সেই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা প্রতি মাসেই দেশে পাঠান। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের মানুষ গত অর্থবছরের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি কর রাজস্ব দিয়েছে। এ দেশের বার্ষিক বাজেটের আকার এখন এক লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। পদ্মা সেতু তৈরির জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এ অর্থ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই জোগাড় করা সম্ভব, সে কথা বিশিষ্টজনরা বারবারই বলছেন। তারা বলে আসছেন, পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামো তৈরির যোগ্য মেধা, পযুক্তি ও অর্থ দেশেই আছে। প্রয়োজন কেবল সাহসের। উপকরণ আমদানি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য প্রয়োজন মতো বিদেশি মুদ্রায় ঋণ সংগ্রহ করার কথাও বলেছেন। একশ্রেণীর সুশীল মানুষও এসব সম্বাবনার কথা হেসে উড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর উচ্ছিষ্টভোগী বা আনুকুল্য প্রত্যাশী। তাদের গেল গেল রবে ভড়কে যান রাজনীতিবিদরা। সহায়তা ভিক্ষার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না তারা।

যে প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক নিজের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করল এবং পরে ২৯০ কোটি ডলারের প্রকল্পটিকেই ঝুলিয়ে দিল, সে পর্বটি ছিল ছয় কোটি ডলারের পরামর্শক নিয়োগের কাজ। বাছাই করা পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে একটি পেতো এ কাজ। ঘুষ সাধার দায়ে অভিযুক্ত কানাডিয়ান কোম্পানি ছিল এর একটি। সেটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে ঋণচুক্তি কার্যকর ও প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। বিশ্বব্যাংক তা শোনেনি। তাদের শর্ত মেনেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার বা সততা পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের অনুমোদন নিয়েই দরপত্র মুল্যায়ন কমিটি গঠিত হয়েছিল। কারো প্রতিই আস্থা নেই এই সংস্থাটির। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে তাদের আস্থা নেই। তাদের দুর্নীতির অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে তিনটি শর্ত সরকার মানেনি বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, সেগুলোতে রয়েছে সরকারি কাজে নিয়োজিত অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ছুটি দেওয়া, দুদকের মধ্যে স্বাধীন একটি কমিটি গঠন করা ও তার কর্মকান্ডের তথ্য বিশ্বব্যাংককে জানানো। এগুলো মানা সম্ভব ছিল না বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত অপমানজনক বললেও অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক কে তা পুনর্র্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। দূর্নীতি দমন কমিশন পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ নিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দূর্নীতি সম্পর্কে জড়িত সন্দেহ ভাজনদের নামে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করেছে। দুদক কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করছেন। এরপরও বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নে এ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারবে জানাননি। সূত্রমতে জানা গেঝে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন জটিলতা নিরসনে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে ফেব্র“য়ারি মাসে সাক্ষাৎ করার জন্য সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ অবস্থান জানার জন্যেই ওয়াশিংটনে যাবেন অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশও বিশ্বব্যাংকের সদস্য, তিনি নিজেও এ সংস্থাটির একজন গভর্নর। ১২০ কোটি ডলার ঋণের আশায় বিশ্বব্যাংককে সন্তুষ্ট করার জন্য তার আর কী করার বাকি আছে। সব জবাবদিহিতা কি শুধু সদস্য দেশকেই করতে হবে? সদস্য দেশের কাছে বিশ্বব্যাংকের কি কোন জবাবদিহিতা নেই?

অর্ধশত বছরেরও আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নগো দিন দিয়েম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বলা যায় অত্যন্ত দহরম-মহরমের সম্পর্ক। কিন্তু এক সময়ে দু-পক্ষের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় এবং দিয়েমকে ক্ষমতাচ্যুৎ করা হয়। বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রই ছিল চক্রান্তের মূলে। এমন বদ্ধমূল ধারণা থেকে মাদাম দিয়েম প্রকাশ্যে একটি মন্তব্য করেন, যা পরে বার বার উদ্ধৃত হচ্ছে, আমেরিকার বন্ধুর দ্বিতীয় কোনো শত্রুর প্রয়োজন নেই। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, এ উক্তি বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন সময় সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যুক্ষরাষ্ট্রের চেয়ে পাকিন্তানের আর কে বড় বন্ধু ছিল? এখন দেখুন, বহুল পরিহিত ছেড়া জামার মতো পাকিন্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। আর পাকিন্তানের চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে গড়ে তুলেছে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিংপং কুটনীতির সুবাদে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরণের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। এখন চীনই হচ্ছে বিশ্বের উদীয়মান এক নম্বর অর্থনীতির দেশ। বিখ্যাত ইকোনমিস্ট পত্রিকায় ভবিষ্যদ্বানী হচ্ছে, চলতি শতাব্দী হবে এশিয়ার এবং এর নেতৃত্ব দেবে চীন ও ভারত।

দেশের মানুষের কাছে যমুনা সেতু ছিল একদিন স্বপ্ন কন্যা। সেই স্বপ্নের সেতু নির্মিত হয়েছে। অবহেলিত উত্তরবঙ্গের সাথে দেশের রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার অভুতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। রাজধানীতে নগরবাসীর প্রত্যাশিত দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাধীন দেশে আরেকটি স্বপ্ন কন্যা পদ্মা সেতু নির্মাণে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে জনগনের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা অনেক। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সূযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সকল রকম দূর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করবেন। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সকল রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মার্কিনীদের রক্তচক্ষুকে ভয় না করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বাঙ্গালি বীরের জাতি। কেউ আমাদের বিজয়কে থামিয়ে রাখতে পারবে না।

লেখক: সদস্য, পাবনা প্রেস ক্লাব

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত