বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চুক্তি ছাড়াই শেষ দিনে গড়ালো ইরানি পরমাণু আলোচনা



ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয়টি বৃহৎ শক্তির আলোচনা দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দিনে গড়ালেও এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভবিষ্যতে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা নিয়েই এবারের মতো বৈঠক শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
শনিবার সকাল ১০টা থেকে কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর আলমাতিতে চূড়ান্ত দিনের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগের দিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুদিনের এ আলোচনা শুরু হয়।
ইরানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচী বন্ধের বিনিময়ে পশ্চিমাশক্তিগুলোর দেওয়া অর্থনৈতিক অবরোধ আংশিক শিথিল করার প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া শুক্রবার জানিয়েছে ইরান।
প্রতিক্রিয়ায় নিজস্ব এক প্রস্তাব হাজির করেছে দেশটি। এতে পশ্চিমা কূটনীতিকরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন আর ইরানি এই প্রস্তাবে উত্তরের চেয়ে আরো বেশি প্রশ্নের উৎপত্তি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।
কূটনীতিক আলোচনার ভেঙে যাওয়ার অর্থ যুদ্ধের দিকে আরেক ধাপ অগ্রসর হওয়া, অংশগ্রহকারী পক্ষগুলোর এটি জানা থাকায় কেউ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাতিল করার কথা উচ্চারণও করছেন না। তবে একটি কার্যকরী চুক্তির সম্ভাবনা আগের মতো যেই তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে, এটি সবাই বুঝতে পারছেন।
শুক্রবার টানা পাঁচঘণ্টার আলোচনা শেষে পশ্চিমা এক কূটনীতিক বলেন, “আমরা অর্থপূর্ণ আলোচনা করেছি। কিন্তু দুপক্ষের মধ্যে এখনও বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে। এখান থেকে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তাই বিবেচনা করে দেখছি আমরা।”
আসছে ১৪ জুন ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতি পাল্টানোর মতো কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হবেনা, এটি আলোচনা শুরুর আগ থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল।
শুক্রবারের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি, এই ছয় বিশ্বশক্তি, একটি বিস্তৃত চুক্তির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরানকে এর সবচেয়ে স্পর্শকাতর পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচী বন্ধ করার আহ্বান জানায়।
উত্তরে ইরানের আলি বাঘেরি বলেন, কোনো মধ্যবর্তী পদক্ষেপ রাজি হওয়ার আগে ইরানের প্রধান উদ্বেগের বিষয়টি কখন এবং কিভাবে চিহ্নিত করা হবে তা ইরান জানতে চায়।
পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান চায়, তেল রপ্তানীসহ ইরানের ওপর আরোপিত প্রধান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হোক এবং পরমাণু সমৃদ্ধকরণের ইরানি অধিকারকে সাধারণভাবে স্বীকার করে নেওয়া হোক। ইরানের দাবি তাদের পরমাণু কর্মসূচী শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত।
এর উত্তরে ছয়জাতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের পরিদর্শকের জন্য ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো উন্মুক্ত করে দিলে ইরানের দাবি মেনে নেওয়া হবে।
কিন্তু গত ২০০৬ সাল থেকেই ইরান বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
আলোচনা শেষে ইরানের আলি বাঘেরি বলেছেন, “সব প্রশ্নের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।”
রাশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রাইয়াবকভ বলেছেন, “ছয় বিশ্বশক্তির প্রস্তাবের উত্তর দিয়েছে ইরান। এটি এমন একটি উত্তর যা আরো প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তবে আলোচনাটি যে গুরুত্বপূর্ণ, এতে এটি বোঝা গেছে।”
আসছে মাসগুলোতে আলোচনায় অর্থপূর্ণ অগ্রগতি না হলে পশ্চিমা সরকারগুলো ইরানের ওপর আরো নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
অতীতে ইরানের সমালোচকরা, যাদের ধারণা পরমাণু কর্মসূচীর মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের চেষ্টা করছে দেশটি, কূটনৈতিক আলোচনার ছলে সময় ক্ষেপণের জন্য তেহরানকে অভিযুক্ত করেছিলো। এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচী বন্ধ করতে দেশটিতে হামলা চালানোর পক্ষপাতী ইসরায়েল চলমান আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতায় অধৈর্য হয়ে উঠেতে পারে।

 

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত