বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরে দূর্নীতির অভিযোগ



চান মিয়া, ছাতক : ছাতক ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরে সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রাহকদের টাকার বান্ডিলে জাল টাকাও বাহকদের মাধ্যমে উত্তোলনে টাকা কম দেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানাযায়, গত ৯ এপ্রিল ছাতক ডিগ্রী কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুর রহিম ১লক্ষ টাকার চেক লিখে বাহক সুনীল চন্দ্র দাসকে টাকা উত্তোলনে ব্যাংকে পাঠান। কিন্ত ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে চেকের বিপরীতে ৫শ’টাকার ১শ’টি নোটের (এক বান্ডিল) ৫০হাজার ও ১হাজার টাকার ৩০টি নোট বান্ডিল বেঁধে ৩০হাজার টাকাসহ মোট ৮০হাজার টাকা বাহকের হাতে দেন। বাহক টাকাগুলো নিয়ে কলেজে গেলে ২০হাজার টাকা কম পাওয়া যায়। এতে হিসাব রক্ষক রহিম ৮০হাজার টাকাসহ বাহক সুনীলকে নিয়ে পূনরায় ব্যাংকে আসলে ২০হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয় ক্যাশিয়ার। এ আত্মসাত প্রক্রিয়ার জন্যে ম্যানেজারের কাছে তিনি বিচার প্রার্থী হন। এভাবে নোয়ারাই ইউপির লক্ষীবাউর-নোয়াগাঁও গ্রামের ব্যাংকের একাউন্ট হোল্ডার আছিয়া বেগমেকে বিদেশ থেকে আসা টাকার সাথে ও শারমিন এন্টার প্রাইজের (চলতি হিসাব নং- ১৫১৫) মালিককে টাকা উত্তোলনের সময় একাধিকবার জাল নোট দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে গ্রামের সাধারণ পুরুষ-মহিলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় টাকার বান্ডিলে ক্যাশিয়ার অত্যন্ত সুকৌশলে জাল নোট দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এ শাখার একটি অসাধুচক্র বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স আত্মসাত প্রক্রিয়ায় মেতে উঠে এমন অভিযোগ সৌদি প্রবাসী একাধিক ভূক্তভোগীর। জানাগেছে, শেলী রাণী বিশ্বাসের (সঞ্চয়ী হিসাব নং-৫৫৫৫) ব্যক্তিগত একাউন্টে ২০০৭সালের ৬ ডিসেম্বর ২৬হাজার টাকা জমা হলে চারদিন পর ১০ ডিসেম্বর টাকগুলো হাতিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। ২০১২সালের ৪এপ্রিলে শেলী রাণীর ব্যাংক ষ্ট্যাটমেন্টে এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি আর ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করছেন না। ছাতক কলেজের হিসাব রক্ষক আবদুর রহিম জানান, তার পাঠানো বাহকের কাছে ২০হাজার টাকা কম থাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা শাহজাহানকে ফোন করেন। কিন্তু কোন সদুত্তর না পেয়ে প্রায় ঘন্টা খানেক পর বাহকসহ তিনি ব্যাংকে আসেন। তার একাউন্টে ফোন নাম্বার থাকার পরও ব্যাংক থেকে তার কাছে কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানান। এব্যাপারে ম্যানেজার মকসুদুর রহমান মুন্সি বলেন, আবদুর রহিমের ১লক্ষ টাকা দেয়ার সময় ক্যাশিয়ার প্রথমে ৮০হাজার টাকা বাহকের হাতে দিয়ে ১শ’টাকার নোটে আরো ২০হাজার টাকা দিচ্ছেন বলে অপেক্ষা করার জন্য বলেন। কিন্তু বাহক ২০টাকা না নিয়ে চলে যান। পরে এসে টাকাগুলো হাতে নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেন। তাই এখানে অনিয়মের তো কিছু দেখিনা। ম্যানেজার আরো বলেন, ক্যাশিয়ার বাহকের হাতে এক সাথে সমূদয় টাকা না দিয়ে অনিয়ম করেছে। তবে এধরনের তুচ্ছ ঘটনা নিজের অজান্তেই ঘটতে পারে। #

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত