রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে ট্রাস্ট ব্যাংক



ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে পাশে থাকবে ট্রাস্ট ব্যাংক। ব্যাংটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বিশিষ্ট ব্যাংকার ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী। শুক্রবার রাতে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকিং সেবা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সুধি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, গত বছরের দেশের মোট রেমিটেন্সের ৪০ ভাগই সিলেটের অর্জন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সিলেটে কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে কম বেশি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠলেও সিলেটে তা শূন্যের কোটায়। ট্রাস্ট ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলের এসভিপি মাসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বারাকাতুল্লাহ ইলেক্ট্রনিক্স ডায়ানামিক্স ও রয়েল হোমস লিমিটেডের এমডি গোলাম রব্বানী চৌধুরী, সাবেক বিএমএ নেতা ডা. শামীমুর রহমান, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর, সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, রোটারী ইন্টারন্যাশনালের সাবেক ডিস্ট্রিক গভর্নর ডা. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শান্তনু দত্ত, রাজনীতিবিদ ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন বাবুল, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নাজমুল ইসলাম, সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি আজিজুল মালিক চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেকিল চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের এসএমই সিলেট অঞ্চল প্রধান টিএইচএম রওশন জামিল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সিলেট ব্রাঞ্চের সহ ব্যবস্থাপক মাহফুজুল হক চৌধুরী। এ সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজসেবী মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারসহ সিলেটের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে ইশতিয়াক চৌধুরী আরও বলেন, সিলেটে ১৩২টি চা বাগান রয়েছে। এরপরও এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ অত্যন্ত কম। সিলেটের উন্নতমানের বালু দিয়ে একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি করার চিন্তা ট্রাস্ট ব্যাংকের রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া সিলেটে একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠায় ট্রাস্ট ব্যাংক উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের ব্যাংকিং এর পাশাপাশি গ্রীণ ব্যাংকিং চালু করেছি। যা থেকে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামকে আলোকিত করা হচ্ছে। ব্যাংকের শুরু থেকে ট্রাস্ট ব্যাংক বিভিন্ন পণ্য নিয়ে শহর এবং গ্রামীন জনপদে কাজ করছে। ফলে সব সময় সবখানে সবার জন্য এই স্লোগানে বিশ্বাসী ট্রাস্ট ব্যাংককে সকলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেট এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। ব্যাংকগুলোতে ডিপোজিটের বড় একটি অংশ অলস পড়ে থাকে। কিন্তু এ নিয়ে সিলেটের বিশিষ্ট নাগরীকদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। দেশ প্রতিষ্ঠার এতো বছর পার হলেও এ অঞ্চলে কেন একটিও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠছে না, তা নিয়েও কেউ ভাবতে চায় না। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে সিলেট আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত