বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বন্দুক যুদ্ধ : ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ আহত ১৫



নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জে বেরী বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার সকালে সাব-ইজারাদার ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন গুলিবৃদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরন করা হয়েছে। বাকী অন্যান্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেরী বিলের লীজ নেন হালিতলা সংগ্রাম মৎস্যজীবি সমিতি। ওই সমিতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন করগাওঁ ইউপির প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা সুকুমার দাশ ও পাঞ্জারাই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুর রকিব। বিল ইজারা নিয়ে সমিতি সারা বছর ধরেই মাছ ধরেন। বিল ইজারা নিয়ে স্থানীয় মুক্তি মৎস্যজীবি সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে রিটপিটিশন দায়ের করলে বিলের যাবতীয় কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। এই আদেশ প্রাপ্তির পূর্বে ইজারা গ্রহিতা সমিতি বিল ফিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। অপরদিকে হেমন্তের মৌসুমে ওই বিল এলাকার মানুষ এখানে গোসল থালা বাসন ধোয়াসহ যাবতীয় কাযকর্ম করেন এই বিলে। ইদানিং প্রায় মাস খানেক পুর্বে চলতি সনের লীজের মেয়াদ শেষ হয়। এমতাবস্থায় গতকাল শনিবার সকালে করগাওঁ ইউপির পাঞ্জারাই গ্রামের আব্দুর রকিব বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বিলে গোসল করারত জনৈকা মহিলার সাথে জালের লোকজনের বাকবিতন্ডা হয়। এ খবর পেয়ে রকিব, তার ভাই শাহীদ মিয়া তাদের ব্যবহৃত শর্টগান ( বন্দুক ) নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গালমন্দ করে। গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করলে আব্দুর রকিব শর্টগান থেকে প্রথমে ২ রাউন্ড ফাকাঁ গুলি বর্ষন করে। এ সময় গ্রামবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় আরও ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষন করলে বেড়ি গ্রামের রব্বান মিয়া (৪০),ফজর আলী (২৫) গুলি বৃদ্ধ হয়েছে বলে জানাগেছে। পরে গ্রামবাসী আপ্রান চেষ্টা করে বন্দুকটি আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আব্দুর রকিব (৪৫), আব্দুস শাহীদ (৩২), জুয়েল মিয়া (২২), লিটন মিয়া (২৮) কে সিলেট প্রেরন ও অন্যান্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেছেন,আহত রব্বান মিয়া জানিয়েছেন তার গোপনাঙ্গে গুলি লেগেছে। তবে কোন আলামত দেখতে পাইনি। নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান,গ্রামবাসী যে বন্দুক হস্তান্তর করেছেন তা আব্দুর রকিবের লাইসেন্সধারী শর্টগান। গুলি বর্ষনের কথা স্বীকার করে বলেন, কত রাউন্ড তা সঠিক করে বলা সম্ভব নয়। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিল ইজারা প্রাপ্ত সংগ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন,কাউকে এই বিল সাব-লিজ দেয়নি। নির্ধারিত সময়ে বিলের ফিশিং কাজ সম্পন্ন করেছি। এছাড়া যেহেতু মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে বিলে সামান্য মাছ থাকলেও যেতে পারি না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ যদি গিয়ে থাকে এর দায় দায়িত্ব সমিতি বহন করবে না। এমনকি এদের সাথে সমিতির সম্পৃক্ততা নেই।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত