বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

বাইক্কা বিলে পরিবেশ বিপর্যয় : পচে গেছে পানি, মরছে পাখি



Baikka-Beel-bg20111121120333জালাল আহমদ : মাছ ও পাখির অভয়াশ্রম মৌলভীবাজারের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। পচে গেছে জলজ উদ্ভিদ। মারা যাচ্ছে বিলের পাখি। মাছ চোরচক্রের দেখাদেখি বিলপারের হাজারো বাসিন্দা ৫ দিন ধরে মাছ লুট অব্যাহত রাখায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল থেকে বিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও মাছ ধরা বন্ধ হয়নি। মাছ লুটে এলাকাবাসীর অভিযোগের ইঙ্গিত বাইক্কা বিলের ব্যবস্থাপনা কমিটির (বড় গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন) দিকে। তবে অবাধে মাছ ধরতে না পারা মহলের ক্ষোভ, এলাকাবাসীর মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল এবং যথাসময়ে প্রশাসনের সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারাকেও মাছ লুটের কারণ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবারও বিলের মাছ লুট হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। 
বাইক্কা বিলপারের বরম্নণা গ্রামের কলিম উদ্দিন জানান, বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনই মাছ ধরে বিক্রি করছে। মাইনষের (মানুষের) কথা আমরা কী দোষ করলাম। সরকারের সম্পদ তারাও খাইব (খাব) আমরাও খাইমু (খাব) তবে বিলের ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, যারা বিল ইজারা নিতে চেষ্টা করেন ও মৎস্যজীবিদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে সুদের কারবার করেন, তারাই বিলকে মেনে নিতে পারেননি। কমিটির সভাপতি আবদুস সোবহান চৌধুরী জানান, ৮/১০ দিন আগে বিলের কিছু মাছ মরে ভেসে ওঠে। এই মাছ মৎস্য কর্মকর্তা ও গ্রামের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে বাজারে বিক্রি করা হয়। অথচ মাছ চোর এবং যারা বিলটিকে নিজেদের কবজায় নিতে পারেননি, তারা এ ব্যাপারে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতলিব জানান, ১৪৪ ধারা শুরম্নতে দিলে এভাবে মাছ লুট হতো না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিলের পশ্চিম দিকে শতাধিক মানুষ মাছ ধরছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফাকুল হক চৌধুরী জানান, পানি থাকলে লোকজন মাছ ধরতে পারত না। বৃষ্টি হলে এ সমস্যা থাকবে না।
আইপ্যাকের (ইন্টিগ্রেটেড প্রটেক্টেড এরিয়া কো-ম্যানেজম্যান্ট প্রজেক্ট) সাবেক ক্লাস্টার পরিচালক মাযহারম্নল ইসলাম জানান, বিলের পানি ঘোলা হয়ে গেছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পানিতে অক্সিজেন কমে গেছে। পাখিও কমে গেছে। বাইক্কা বিল রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকো-সিস্টেম অ্যা- লাইভলিহুডের (ক্রেল) এলাকা সহকারী মনিরম্নজ্জামান জানান, গত রোববার নৌকায় করে বিলে ঘুরেছি। পানিতে পচা গন্ধ। বড় বড় প্রচুর মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখেছি। জলজ উদ্ভিদ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পাখি কমে গেছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত