বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আতংকের জনপথ বিশ্বনাথ: দিনদিন সহিসংতা-খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে



55555```bমোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ: বিশ্বনাথ উপজেলা এখন আতংকের জনপথে পরিনিত হয়েছে। খুনের ঘটনা-সহিংসতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় রাজনীতি সহিংসতা, গ্রামের বিরোধ এনিয়ে প্রতিদিন উপজেলা কোথাও কোথাও সংর্ঘষ বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে আসছে। গত ১৩ মাসের ভিতরে রাজনৈতিক সহিংসতা, সস্ত্রাসী হামলা, জমি সংক্রান- বিরোধ, পূর্ব বিরোধ, শ্বাসরোধ করে হত্যাসহ বিভিন্ন কারনে ১০টি খুন হয়েছে। যার ফলে উপজেলাবাসি প্রতিদিন আতংকের মধ্যে দিয়ে বসবাস করে আসছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
গত বছরের ২২ ও ২৩ এপ্রিল নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস ইস্যুতে হরতালের সময় শানি-র জনপদ এই উপজেলা একটি অশানি-র জনপদে পরিণত হয়। যাহা স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বনাথবাসী এমন কোন ভয়াবহ পরিসি’তি আর কখনও দেখেননি। ২৩ এপ্রিলের সহসিংতার ঘটনায় তিন জন মারা যায়। ওই দিনের ঘটনায় শানি-র জনপদ বিশ্বনাথ উপজেলাটি সারাদেশে আতংকের জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যাহা আর কোন উপজেলায় এমন ধরনের কোন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেনি। কিন’ বিশ্বনাথে খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এভাবেই আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২৩ এপ্রিলের পর চলিত বছরের ২০ মার্চ হরতাল চলাকালে পুলিশ-জামায়াত সংর্ঘষে এক জামায়াতকর্মী নিহত হন এরপর রাজনৈতিক বড় ধরণের কোন সহিংতার ঘটনা ঘটেনি। তবে গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দলের গ্রুপিং,গ্রাম্য বিরোধ নিয়ে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় তিন শত লোক আহত হন। সর্বশেষ চলিত বছরের ১১ এপ্রিল উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু-গ্রুপের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরন-গুলি ছুড়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৩ মাসে উপজেলায় ১০টি খুন এবং দুই শতাধিক সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ২৭ জানুয়ারী নিজ ব্যবসা প্রতিষ্টানে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করা হয় খাজাঞ্চি ইউনিয়নের মুছেধরগাঁও গ্রামের মাসুক মিয়া ছেলে যুবদল নেতা ফুল মিয়াকে (২৮), একই বছরের ৮ই এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজ বসত ঘরে মুখোশধারী সস্ত্রাসীদের হামলায় খুন হন অলংকারি ইউনিয়নের টুকেরকান্দি গ্রামের মৃত প্রবাসী শমসেদ আলীর স্ত্রী সুরেজা বেগম (৬০), ২৩ এপ্রিল নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে হরতাল চলাকালিন সময়ে সহিংসতার ঘটনায় মনোয়ার হোসেন (৩০), সেলিম আহমদ (২২), জাকির হোসেন (২০) খুন হয়, ২৪ মে দেওকলস ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের সুনর আলীর ছেলে দিন মজুর ওলিউর রহমান জলিল (২২) প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়, গত ৮ সেপ্টেবর জমি সংক্রান- বিরোধের জের ধরে সিঙ্গেরকাছ পশ্চিমগাঁও গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবারক আলী ও আবদুল মনাফ পক্ষের লোকজনের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ি সংর্ঘষের ঘটনায় আবারক আলী পক্ষের আব্দুল খালিক (৫০) ও আব্দুর নুর (৬০) খুন হন। গত ৩১ শে অক্টোবর রাতে উপজেলার সাড়ইল গ্রামে অটোরিক্সা চালক শানুর আলী (৩০) খুন হন। সর্বশেষ চলিত বছরে ২০ মার্চ জামায়াতে ডাকা হরতাল চলাকালে উপজেলা সদরের পল্লী বিদুৎ অফিসের সামনে জামায়াত-পুলিশের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতকর্মী গোলাম রব্বানী গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত হন। এভাবে ঘন ঘন খুন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এখন এই উপজেলার সর্বস’রের জনসাধারনের মধ্যে এক অজানা আতংক বিরাজ করছে। সমপ্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর ঘনঘন হরতালের ফলে সহিংসতার আতংকে ভুগছেন উপজেলাবাসি। ফলে উপজেলা সদরসহ মফস্বলের হাট-বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় চরম ধস নেমে এসেছে। যার ফলে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি নিয়েও অনেকের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, থানার ওসির কর্ম কান্ডের হিসাব খতিয়ে দেখব এবং দায়িত্বে অবহেলা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া নেব।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত