শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

খরায় হাকালুকি হাওরপারের দেড় হাজার হেক্টর বোরো ফসল নষ্ট



জালাল আহমদ : দেশের বৃহৎ হাকালুকি হাওরপারে এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়নি। হাওরপারের উপজেলা মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়ায় দীর্ঘ খরায় সেচের অভাবে কয়েকটি এলাকায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বোরো ফসলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, জুড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) এবং স্থানীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমি পড়েছে সদর জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাকালুকিপারের বিভিন্ন ক্ষেতের ধান পেকেছে। লোকজন দল বেঁধে ধান কাটছেন। অনেকে কাঁধে করে ধানের আঁটি নিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন।
ধান কাটার কাজ তদারকিতে ব্যস্ত সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের কানকইরচক গ্রামের খুরশীদ আলী বলেন, পাঁচ কিয়ার (বিঘা) খেত করেছি। ফসল খুব একটা ভালা অয়নি।
গোবিন্দপুরের আব্দুর রহমান নিজের ক্ষেত দেখিয়ে বলেন, ১৫ কিয়ারে খেত করেছি। খরায় বারো আনাই (শতকরা ৭৫ ভাগ) নষ্ট করিলাইছে। সময় মতো সেচর লাগি সামান্য পানিও পাইছি না।
এলাকাবাসী জানান, শুষ্ক মৌসুমে হাকালুকি হাওরপারের বোরো ধানের ক্ষেতে সেচ সুবিধার জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১০-১১ অর্থবছরে ভরাট হয়ে যাওয়া ‘হযরত শাহ্ খাকী (রহ:) খালের’ প্রায় ৩ কিলোমিটার জায়গা পুন:খনন করা হয়। ওই খালটি জুড়ী নদীর শাখা কণ্ঠিনালা নদীর সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া সেচ সুবিধার জন্য পানি জমিয়ে রাখতে কণ্ঠিনালা নদীতে ২০০৬ সালের দিকে রাবার বাঁধ প্রকল্প চালু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের বিভিন্ন স্থানে লোকজন মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেছে। এছাড়া সময় মতো রাবার বাঁধ উঁচু করা ও জুড়ী নদীর হিনাইনঘাট এলাকায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এসব কারণে কণ্ঠিনালা ও জুড়ী নদীতে পর্যাপ্ত পানি জমেনি। ফলে শাহ খাকী, কাটানালা খালসহ ওই দু’টি নদীর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য খাল দিয়ে হাকালুকিপারে পানি ঢুকতে পারেনি। এ অবস্থায় ভরা মৌসুমে সেচ সুবিধা পাওয়া যায়নি। সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ কান্তি দাশ ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৈয়ব আলী জানান, খরায় জায়ফরনগরের শাহপুর, গোবিন্দপুর, দীঘলবাক, ভুয়াই, নিশ্চিন্তপুর, হেকিমপুর, রাজাপুর ও কানকইরচক এবং পশ্চিম জুড়ীর তালতলা, খাগটেকা ও কালনীগড়ের প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর বজলুর রশীদ জানান, খরায় কিছু তি হওয়ায় বোরো ধানের এবার ভালো ফলন হয়নি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত