শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলা দেখার আছে অনেক কিছু



WaterFall Pic 1জালাল আহমদ : বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজার। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিদিন এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে থাকে। দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজে ভরা মায়াবী স্বপ্নপুরী মৌলভীবাজার জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো বছরের প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকের পদভারে থাকে মুখরিত। সবুজ চা বাগান ঘেরা উঁচু-নিচু টিলাগুলোর সৌন্দর্য লিখে বা বলে বোঝানো যাবে না। এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে এ জেলায়। আসলে বোঝা যাবে যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্টের। ছোট-বড় টিলার ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে পাহাড়ি ছড়া। পাহাড়ি ভূমির ঘন সবুজ অরণ্যের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এসব ছড়ার সৌন্দর্যই আলাদা। মাইলের পর মাইল জুড়ে বিসত্মৃত বনাঞ্চলে নানা পশু-পাখির বাস। এতো পাহাড়, বন-বনানী, পাখ-পাখালির কলকাকলি, ঝরণা, হ্রদ, জলপ্রপাত, চা বাগান মৌলভীবাজার জেলাকে করেছে আকর্ষণীয়। পাহাড়, বনাঞ্চল, রাবার, লেবু, আনারস বাগান আর সবুজ চা বাগানের সমারোহে মৌলভীবাজার অঞ্চল প্রকৃতির এক অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। জলপ্রপাত, হ্রদ, লেক, জাতীয় পার্ক ও ইকোপার্ক এ জেলাকে করে তুলেছে আরও মোহনীয়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বড়লেখার মাধবকু- জলপ্রপাত ও পরীকু- পর্যটকদের কাছে প্রকৃতির আরেক বিষ্ময়। শ্রীমঙ্গলের সুবিশাল হাইল হাওরের নীল জলরাশি, পদ্ম আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের খেল দেখার মতো। বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়াশ্রম ও পাখির অভয়ারণ্যের টানে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা। এছাড়াও দেশে এ জেলার চা বাগানের জুড়ি মেলা ভার।
মৌলভীবাজারের বর্শিজোড়া ইকোপার্ক, হাকালুকি হাওর, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, পাঁচগাঁওয়ের দুর্গাম-প, মনুু ব্যারেজ, কাউয়াদিঘী হাওর, দেশের একমাত্র চা জাদুঘর, টি রিসোর্ট, চা-কন্যা ভাস্কর্য, নির্মাই শিববাড়ি, দেশের একমাত্র চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, খাসিয়া পুঞ্জি, আগর বাগান, সীতেশ দেব’র চিড়িয়াখানা, ডিনস্টন সিমেট্রি, বার্ণিশ টিলা, গল্ফ ফিল্ড, পাখিবাড়ি, বধ্যভূমি ৭১, লালমাটি পাহাড়, পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্যণ।
সীমান্তবর্তী এ জেলায় রয়েছে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। খাসিয়া, মণিপুরী, সাঁওতাল, টিপরা এবং গারো সমপ্রদায়ের স্বতন্ত্র জীবনাচার এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন ও সংস্কৃতি দেখলে খানিক সময়ের জন্য হলেও পাহাড়ি হয়ে প্রকৃতির কোলে মিশে যেতে মন চাইবে। এদের জীবন ও সংস্কৃতি দেখতে পর্যটকদের বারবার মৌলভীবাজার ভ্রমণে উৎসাহিত করে। প্রতি বছর চা বাগানগুলোতে ফাগুয়া উৎসব, টিপরাদের বৈসু উৎসব, মণিপুরীদের রাস উৎসব, গারোদের ওয়ানগালা উৎসব উদযাপিত হয় খুব জাকজমকপূর্ণভাবে। তাদের এই আনন্দ উৎসবে মিশে যেতে পারেন আপনিও একান্তে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাস ও রেলপথে শ্রীমঙ্গলে আসতে পারেন। ট্রেনে আসলে শ্রীমঙ্গল নেমে বাসে মৌলভীবাজার যেতে হবে। শ্রীমঙ্গল বা মৌলভীবাজার থেকে সিএনজি, অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসযোগে সবক’টি পর্যটন স্পটগুলোতে যাওয়া যায়। প্রতিদিন ঢাকা থেকে তিনটি ও চট্টগ্রাম থেকে দুইটি আন্ত:নগর ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গলে আসা যাবে। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, বগুড়া থেকে সরাসরি বাসযোগে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার আসা যায়। দিনাজপুর থেকে ট্রেনযোগে ঢাকা হয়ে শ্রীমঙ্গলে আসতে পারেন। তাহলে আর দেরি কেনো আজই বেরিয়ে পড়ুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত