শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হিটলারের মহিলা খাদ্য পরীক্ষকের অজানা কাহিনী



32991_WWWডেস্ক রিপোর্ট : মুখ খুলেছেন এডলফ হিটলারের মহিলা খাদ্য পরীক্ষক মারগট ওয়েক। প্রায় অর্ধ শতক তিনি এ রহস্য প্রকাশ করেননি। এমনকি তিনি তার স্বামীর কাছেও প্রকাশ করতেন না। নাৎসি দলের সদস্য না হলেও হিটলারের সঙ্গে তার জানাশোনার উপাখ্যান প্রকাশ করতে তিনি লজ্জাবোধ করতেন। কিন্তু তিনি তার ৯৫তম জন্মবার্ষিকীর কয়েক মাস আগে যুদ্ধকালে তার দুর্লভ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে একথা বলা হয়। 
ওয়েকের বয়স ছিল তখন বিশের কোঠায়। তিনি পোল্যান্ডে হিটলারের সুরক্ষিত সদরদপ্তর ওলফ লেয়ারে আড়াই বছর কাজ করেন। খাদ্য পরিবেশনের আগে তাতে বিষ মেশানো আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হতো। পরীক্ষিত খাদ্য হিটলারের কাছে পরিবেশন করা হতো। ওয়েকের মতো ১৫ জন তরুণী মহিলা হিটলারের খাদ্য পরীক্ষা করতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিনগুলোর বেশিরভাগ সময় ওয়েক ওলফ লেয়ারে অবস্থান করতেন।
নাৎসি নেতা হিটলারের খাদ্যাভাস সম্পর্কে ওয়েক বলেন, তিনি ছিলেন নিরামিষভোজী। আমার অবস্থানকালে তিনি কখনো মাংস ভক্ষণ করেননি। হিটলার আশঙ্কা করতেন, ব্রিটিশরা তাকে বিষপ্রয়োগ করতে পারে। তাই তিনি ১৫ জন মহিলাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এসব মহিলা হিটলারের কাছে পরিবেশনের আগে খাদ্য পরীক্ষা করতো।
মারগট ওয়েক আরো বলেছেন, হিটলারের খাদ্য ছিল সুস্বাদু। সর্বোত্তম সবজি এসপারাগাস। তার সঙ্গে থাকতো সামান্য ভাত কিংবা প্যাসটা। সার্বক্ষণিক একটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল। আমরা হিটলারকে বিষ প্রয়োগের গুজব শোনতাম। তাই আমরা কখনো খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারিনি। প্রতিদিন আমাদের মনে হতো আজই আমাদের শেষদিন। এটাই আমাদের শেষ আহার।
মিত্রবাহিনীর বিমান হামলা থেকে বাঁচতে বার্লিনে পালানোর পর তিনি হিটলারের সান্নিধ্যে আসেন। তার স্বামী জার্মান সেনাবাহিনীতে চাকরি করায় তিনি তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে ৪৩৫ মাইল দূরে পূর্ব রাসেনবার্গে পৌঁছান। রাসেনবার্গেই ছিল হিটলারের সদরদপ্তর ওলফ লেয়ার। তাকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ভর্তি করা হয়। এসময় তাকে হিটলারের বাংকারে আড়াই বছর খাদ্য পরীক্ষকের চাকরি করতে হয়। হিটলার অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখতেন। মারগট ওয়েক কখনো হিটলারকে ব্যক্তিগতভাবে দেখেননি। হিটলারের জার্মান মেষপালক ব্লন্ডি ও এসএস গার্ড মহিলাদের সঙ্গে কথা বলতো।
হিটলারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ভিত্তিহীন ছিল না। ১৯৪৪ সালের ২০ জুলাই কর্নেল স্টফেনবার্গ ওলফ লেয়ারে বোমা পেতে তাকে হত্যা করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। হিটলার বেঁচে যান। তবে তাকে হত্যা করার চেষ্টায় জড়িত থাকায় কর্নেল স্টফেনবার্গসহ প্রায় ৫ হাজার লোককে হত্যা করা হয়। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে ওয়েক বলেন, আমরা একটি কাঠের বেঞ্চে বসা ছিলাম। এসময় একটি অবিশ্বাস্য বিরাট শব্দ শুনি। আমরা বেঞ্চ থেকে পড়ে যাই। আমরা কাউকে চিৎকার করে বলতে শুনি, হিটলার মারা গেছেন। কিন্তু তিনি মারা যাননি।
এ বিস্ফোরণের পর হিটলারের সদরদপ্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাৎসিরা ওয়েককে তার আত্মীয়ের বাড়ি ত্যাগ করে নিকটবর্তী একটি স্কুলে উঠার নির্দেশ দেয়। সোভিয়েত বাহিনী এগিয়ে আসতে থাকায় এবং জার্মানি পরাজিত হওয়ার পথে ধাবিত হওয়ায় তার একজন এসএস বন্ধু তাকে উলফ লেয়ার পরিত্যাগের পরামর্শ দেয়। ওয়েক ট্রেন যোগে বার্লিনে ফিরে এসে আত্মগোপন করেন। খাদ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত অন্য মহিলারা রাসটেনবার্গকে তাদের নিজেদের বাড়ি মনে করতো। সেখানে তাদের আত্মীয় স্বজন ছিল। তাই তারা সেখানে অবস্থান করতে থাকে। ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে রুশ সৈন্যরা হিটলারের খাদ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত ১৪ জন মহিলার সবাইকে গুলি করে হত্যা করে।
১৯৪৫ সালের ২০ এপ্রিল সোভিয়েত কামান বার্লিনের উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ শুরু করে। দু’সপ্তাহ প্রচ- প্রতিরোধের পর ২ মে বার্লিন আত্মসমর্পণ করে। হিটলার আত্মহত্যা করেন। রুশরা বার্লিনে প্রবেশ করে। রুশ সৈন্যরা ওয়েককে ধরে ফেলে। তাকে একজন ডাক্তারের এপার্টমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে উপর্যুপরি ১৪ দিন ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণে তার সন্তান ধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তার স্বামী যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন। ২৩ বছর পর তিনি মারা যান।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত