মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলা : অগ্নিসংযোগে বসতঘর পুড়ে ছাঁই



pic-2স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল ভোর রাতে মরহুম আব্দুল কাইয়ুমের বাসভবনে অজ্ঞাত দু®কৃতিকারীদের ৫/৬ জনের একটি দল এসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জানা যায়, গতকাল ১০ এপ্রিল বুধবার ভোররাতে আব্দুল কাইয়ুমের বসতঘরে আগুন লাগে। এলাকার নৈশপ্রহরী মো. আব্দুল হান্নান জানায়, রাত প্রায় ৪টার দিকে ৫/৬ জনের একটি দল মুহূর্তের মধ্যে তার বসতঘরের পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। তবে নৈশ্য প্রহরী বয়স্ক লোক হওয়ায় তার কোন কথায় দুষ্কৃতীকারিরা জ্ঞানে নেয়নি বলে জানান তিনি। মরহুম আব্দুল কাইয়ুম এর স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একা আশেপাশে আমার কোন আত্মীয় স্বজন নেই বিধায় আমি স্বপরিবারে আমার বাবার বাড়ি থাকি। তবে আমার সন্দেহ আমার ছেলে সুমন মাহবুবের শত্র“রাই এ কাজ করেছে। ১৯৮৯ সালের ২৬ মার্চ জন্মগ্রহণকারী মাহবুব সুমন ছিলো খ্যাতিমান আইনজীবী আবদুল কাইয়ুমের বড় ছেলে। সততা, ন্যায়পরায়নতা, কর্তব্যপরায়নতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ২০০২ সাল থেকে সরকারী কৌশলী হিসাবে তার পিতা সুনামগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছিলেন টিআইবি ও মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর উপদেষ্টা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও নীতির প্রতি অবিচল থাকায় তিনি সুনামগঞ্জের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ও জঙ্গি সংগঠনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন।
একদিকে রাষ্ট্রের আইনবর্হিভূত মৃত্যুর ফরোয়ানা। প্রতিহিংসার স্বীকার বহুদলীয়, রাজনীতিক ও দুষ্কৃতীকারী কর্তৃক হুমকির ভয়। কথা বলার এক ফাঁকে আকতার রহিমা কাঁদতে কাঁদতে বলেন আমার ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার পিত্রালয়ে থাকার পরেও আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন যাপন করছি। আমি এখনো জানিনা আমার ছেলে জীবিত না মৃত। মায়ের চোঁখের জল আর দীর্ঘশ্বাস একমাত্র সম্বল তাদের। মরহুম আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী আকতার রহিমা বলেন, ডাঙ্গাঁয় বাঘ জলে কুমীর। কার কাছে ছেলের কথা বলবো? প্রকাশ্যে আসলে ছেলের মৃত্যু। যদি বেঁচে থাকে তাহলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকে বেচে থাকুক!
আকতার রহিমা তার ছেলেকে ফিরে পেতে তিনি স্থানীয় প্রশানের কাছে সহযোগীতাও কামনা করেছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তার ছেলের কোন সন্ধান এখনও দিতে পারেনি বলে জানান তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত