শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিল্পবান্ধব বাজেট চান উদ্যোক্তরা



badgetবিশ্বায়নের যুগে নিজস্ব পণ্যের বাজার ধরে রাখতে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার ওপর নির্ভর না করে পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং দক্ষতার ব্যবহারসহ আসন্ন বাজেটে শিল্প বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত চান শিল্প উদ্যোক্তারা।
তারা বলছেন, দেশীয় শিল্প বিকাশের অনুকূল শুল্ক ও কর কাঠামো গড়ে তুলে নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরো বাস্তবমুখী হওয়া দরকার। বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, উন্নয়ন প্রশাসনে দক্ষতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।
আগামী ৩ জুন বিকাল সাড়ে ৫টায় নবম জাতীয় সংসদের ১৮ অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) বসছে। স্বনির্ভর হতে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে সরকারকে আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। শিল্পবান্ধব বাজেট না দিয়ে নিয়ম রক্ষার বাজেট দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পের সুরক্ষায় আগামী বাজেটে চার স্তরবিশিষ্ট শুল্ক কাঠামো প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত হয় এমন যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামালে ৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বলছে, মধ্যবর্তী কাঁচামালে ১২ শতাংশ ও তৈরি পণ্যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হতে পারে। এছাড়া কৃষি কাজে ব্যবহার্য সার, বীজ, ওষুধ এবং খাদ্যদ্রব্যে শূল্ক শূন্য শতাংশ রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাজারি শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করতে টার্নওভার করের আয়সীমা ৭০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে করের হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর লিস্টেড কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট ট্যাক্স সাড়ে ২৭ শতংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে।
ডিসিসিআই মনে করে, আসন্ন বাজেট দেশীয় শিল্পবান্ধব না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হলে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বিদ্যমান সাড়ে ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ করা, অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) বতিল করা, শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রত্যাহার করা, বাণিজ্যিক বাড়িভাড়ার ওপর ভ্যাট বাতিল, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটের বিদ্যমান প্যাকেজ বহাল রাখা এবং আমদানি পণ্যে নতুন ভ্যাট আরোপ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব দিয়েছে।
বাজেট প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সবুর খান পরিবর্তন ডটকম কে বলেন, জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্পের অনুকূলে কর কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণোয়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পোশাক খাতের দুর্ঘটনায় দেশের সার্বিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পবান্ধব সুষম বাজেট প্রণয়নের পাশাপাশি তা কার্যকর করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, আসন্ন বাজেট অবশ্যই বিনিয়োগবান্ধব হতে হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত