রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গণসংযোগে ব্যস্ত আরিফ-কামরান



P1_gonoshongjoge-bastoপ্রচার-প্রচারণার আর হাতে সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী-সমর্থকদের চোখে ঘুম নেই। কিশোর তরুণদের উত্সাহে কমতি নেই। লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও ব্যানার লাগানো, ভোটার তালিকা নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা এখন পুরোদমে চলছে। বেড়েছে শ্রমজীবী ভোটারদের কদর। গলায় জড়িয়ে ধরে আপন করে নেয়ার প্রার্থীদের নির্বাচনী সেই পুরাতন দৃশ্য এখন বিরাজ করছে সর্বত্র। জমে উঠেছে নির্বাচনী ময়দান। সরাসরি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনী আইনে নেই। তারপরও নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। প্রার্থীও বড় দু’দলেরই বেশি। বাস্তবে সরকার ও সরকারবিরোধী রাজনীতির হিসাব-নিকাশের মধ্যে বর্তমানের নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। জনকল্যাণ, উন্নয়ন, দুর্নীতি, কর্মস্পৃহা—সবই স্থান পাচ্ছে প্রার্থীদের প্রচারণায়।
১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল বিভিন্ন স্থানে তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন, ‘এর আগে সিলেট নগরীতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং উন্নয়নের নামে হয়েছে লুটপাট। যানজট, জলাবদ্ধতা, পানির সঙ্কট
আগের চেয়ে বেড়েছে অনেক গুণ।’ ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘অতীতে সিলেট সিটি করপোরেশনে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এসব প্রকল্পের টেন্ডারে দুর্নীতি হয়েছে—এমন কথা কেউ বলতে পারবেন না।’
আরিফুল হক চৌধুরী : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দলীয় গণতান্ত্রিক জোট সমর্থিত ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল নগরীর জিন্দাবাজার, লালবাজার, পুলিশলাইন, শাহী ঈদগাহ, কাষ্টঘর, মেন্দিবাগ ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি বলেন, এর আগে সিলেট নগরীতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, পানির সঙ্কট আগের চেয়ে বেড়েছে অনেক গুণ।’ এ অবস্থায় উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে টেলিভিশন মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পবিত্র নগরী সিলেটকে রক্ষা করার দায়িত্ব সিলেটবাসীর। ব্যবসায়ীরা এদেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি—উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, যানজট সমস্যা সমাধান এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, সিলেটের মানুষ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। গত ৫ বছরে নগরীতে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে—সদ্যবিদায়ী মেয়রের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আরিফ বলেন, ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন হলে সিলেট আজ এ অবস্থায় থাকত না। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগর তলিয়ে যেত না, মানুষজন রাস্তা-ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারত, এমনকি রাস্তায় চলাচলের সময় নাকে রুমাল দিয়ে যেতে হত না। তিনি বলেন, মুখে শুধু উন্নয়ন হয়েছে বললে হবে না; কোথায় উন্নয়ন হয়েছে, তা নগরবাসীকে দেখতে হবে।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী, প্রফেসর এ এন এ মাহবুব আহমদ, লে. কর্নেল (অব.) প্রফেসর আতাউর রহমান পীর, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল গফফার, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ডা. সায়েফ আহমদ, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, ক্রীড়া সংগঠক আহমদ জুলকারনায়েন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ আতাউর রহমান, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এনামুল কুদ্দুস, আবু লয়েস, কবির আহমদ, আরিফ আহমদ, আবদুস সালাম, মুক্তার বকস, আলহাজ হাবিবুর রহমান, এ বি এম মুশরাফ, মানস, শাহ হাবিবুর রহমান, এস এম কিবরিয়া, হোসেন আহমদ, তাহমিদুল হাসান জাবেদ, মতিউর রহমান কয়েস, মঈনুল হক, ইমরান আহমদ, আহমদ সোহেল ফাতেহ, জুনেদ আহমদ, জামাল আহমদ, শেখ মো. ইলিয়াস আলী, বাবুল আহমদ প্রমুখ।
ড্যাব : নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে গতকাল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম, ডা. শামিমুর রহমান, অধ্যাপক ডা. শাখাওয়াত হোসেন, ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ডা. রফিকুস সালেহীন, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন, ডা. সায়েক আজিজ চৌধুরী, ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, ডা. শোয়েব আহমেদ, ডা. তহুর আবদুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া সকালে ইমাম সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বদরউদ্দিন আহমদ কামরান : আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নির্বাচনে আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করতে সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নগর ভবনে ছিলাম। আমি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। অতীতে সিলেট সিটি করপোরেশনে অনেক বড় বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এসব প্রকল্পের টেন্ডারে দুর্নীতি হয়েছে—এমন কথা কেউ বলতে পারবেন না। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আরও বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিষদে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিভিন্ন দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। সবার সমন্বয়েই আমি করপোরেশন পরিচালনা করেছি। কারও প্রতিই কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি। সমানভাবে নগরীর সব ওয়ার্ডে উন্নয়নকাজ করেছি। গতকাল দক্ষিণ সুরমার টেকনিক্যাল রো ও সাধুরবাজার এলাকায় গণসংযোগ এবং খোজারখলায় গণসংযোগকালে এক ঘরোয়া বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ১৪ দল নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে সকাল দশটার দিকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান খোজারখলায় পৌঁছলে এলাকাবাসী তাকে স্বাগত জানান। মেয়র থাকাকালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করায় এ সময় এলাকাবাসী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে ধন্যবাদ জানান। এলাকাবাসী এর আগের নির্বাচনের মতো এবারও আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আশ্বাস দেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে। কামরান খোজরখলা পঞ্চায়েত কমিটির সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হন। পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজী ছমরু মিয়ার সভাপতিত্বে ও শাহীন আহমদ শামীমের পরিচালনায় বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ সিরাজ বক্স, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রইছ আলী, ব্যবসায়ী মতছির আলী, ক্রীড়া সংগঠক তিতন মিয়া, আলহাজ মতিন মিয়া, গোলাম কিবরিয়া হীরা, লিলু মিয়া, আলহাজ আমির উদ্দিন, আজমল মিয়া, প্রবাসী বাবর মিয়া প্রমুখ। টেকনিক্যাল রোড এলাকায় গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, বদরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, সোনামিয়া প্রমুখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত