সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হাঁচি দিলে এনবিআরের সর্দি লাগে



2015_12_01_14_29_52_hrLXG2HzrO6RDczieksXhLAAFYwkmz_originalনিউজ ডেস্ক :: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়্যারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হাঁচি দিলে এনবিআরের সর্দি লেগে যায়। সে রকম একটি সম্পর্ক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর সাস্টেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের (ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা) ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত ডব্লিউটিএ’তে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি।’

‘তবে এটা সত্য যে, এটা শুধু এনবিআরের একার ক্ষেত্রে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়ন সম্ভব না। এর সাথে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত আছে। আমি এটুকু বলতে পারি, এনবিআরের সঙ্গে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকল বিভাগের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে।’

‘বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। আমরা আসন্ন নাইরোবিতে ডব্লিউটিএ’র সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছি। সেখানে এই ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্বন্ধে আরো বিশদভাবে আলোচনা হবে’, বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘এনবিআরের পুরনো স্টাডি আর অনুসরণ করা হবে না। এটা নতুন এনবিআর, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫-পি’র আওতায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সব ধরনের বৈধ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু কোনো প্রকার অবৈধ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা খুবই কঠোর।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দেশে এখনো চার ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। এর মধ্যে নীতিগত সমস্যা, যেটার সিদ্ধান্তহীনতায় আমরা সবসময় ভুগি। দ্বিতীয়ত অপারেশনাল সমস্যা, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না। তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা কো-অর্ডিনেশন করতে পারি না। আর চতুর্থ হচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ীর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্পর্কে জানার ঘাটতি আছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। যেসব কারণে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারছি না।

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে। নতুবা এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি চালু করায় ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক ও সুযোগ বাড়বে। একইসঙ্গে রাজস্ব ব্যয় কমবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন খুব জটিল একটা বিষয় নয়। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। এর এ বি সি ক্যাটাগরি রয়েছে। সেগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। একইসঙ্গে ডব্লিউটিএ’র অ্যাগ্রিমেন্টগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি। এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থবিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিকেএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি এএইচ আসলাম সানি, সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত