বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস্তব অবস্থা



4নিউজ ডেস্ক :: প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও জাঁকজমকভাবে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা সভা, সেমিনার, র‌্যালি ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এইসব অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা ধরনের আশার বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাগ্যে লাঞ্ছনা বঞ্চনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই জোটে না। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। নামমাত্র একটি জরিপ হলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জরিপ করা হয়নি, ফলে আমার মতো অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ থেকে বাদ পড়েছে।

কোনো স্কুলে বা কেন্দ্রে গিয়ে জরিপে নাম লিপিবদ্ধ করানো একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পক্ষে নানা কারণেই সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিই হুইলচেয়ার ও অন্যের সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে চরাফেরা করতে অক্ষম। বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের পক্ষেও নিজ উদ্যোগে জরিপ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ আরো অনেক ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের পক্ষে জরিপ কার্যক্রমের গুরুত্ব অনুধাবন করাই কঠিন। বা ব্যাপারটি তাদের কাছে আদতেই গুরুত্বহীন।

প্রতিবন্ধিতা কী
প্রতিবন্ধিতা একটি সার্বজনীন বিষয় এবং সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টিকে দেখা হয়ে থাকে। আমাদের অনেকেই কোনো না কোনোভাবে কমবেশি প্রতিবন্ধিতার শিকার। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমরা প্রায় সকলেই প্রতিবন্ধিতা ব্যাপারটির সঙ্গে পরিচিত। কোনো পরিবার সরাসরি প্রতিবন্ধী সদস্য নিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার কোনো পরিবারের নিকট বা দূর আত্মীয় প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। এর মধ্যে নারী প্রতিবন্ধীর পরিমাণ ৪৯%। সমীক্ষায় প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার নারী প্রতিবন্ধী রয়েছেন বলে অনুমান করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন – ২০০১ (জাতীয় নীতিমালা – ১৯৯৫)
‘প্রতিবন্ধী’ অর্থ—এমন ব্যক্তি যিনি জন্মগতভাবে বা রোগাক্রান্ত হইয়া বা দুর্ঘটনায় আহত হইয়া বা অপচিকিৎসায় বা অন্যকোন কারণে দৈহিকভাবে বিকলাঙ্গ বা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন; এবং উক্তরূপ বৈকল্য বা ভারসাম্যহীনতার ফলে স্থায়ীভাবে আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতাহীন; এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে অক্ষম।

জাতিসংঘ
জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রতিবন্ধিতা বলতে বোঝায়—মানুষের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে উদ্ভূত এমন কোনো বাধা বা সীমাবদ্ধতা যা একজন মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে আংশিক বা পূর্ণভাবে ব্যাহত করে। ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের ৩৭তম সাধারণ সভায় এ সংজ্ঞাটি নির্ধারিত হয়।

আই এল ও
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৃত্তিমূলক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আই এল ও) প্রতিবন্ধিতাকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে—একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হচ্ছেন তিনি, স্বীকৃত শারীরিক ও বুদ্ধির ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে যার যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা কমে যায়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থা
বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য, তাদের জীবন যাপনের অবস্থা ও তা পরিবর্তনের লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া খুবই কঠিন। কেননা এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য বস্তুত নেই বললেই চলে। তথ্যের এ ঘাটতি থেকেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং সমাজে তাদের প্রান্তিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায় না। তবু যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, তাতে তাদের জীবনের করুণ ও অসহায় অবস্থাটিই ফুটে ওঠে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, যেকোন দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যার ধরন, অবস্থা, প্রতিবন্ধিতার কারণ ইত্যাদি বিষয়ে সার্বিক কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য নেই। অথচ তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যথাযথভাবে সম্পৃক্তকরণে এসব তথ্য অতি আবশ্যক। তথ্য সংগ্রহের কোনো নিয়মিত প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধিতা বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালের জাতীয় আদম শুমারিতে প্রতিবন্ধিতা বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া ১৯৯৪ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে একটি জরিপ চালায়।

কিন্তু এসব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃত তথ্যের চেয়ে অনেক কম, সরকারিভাবে প্রাপ্ত এসব তথ্যে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ কখনোই সন্তোষ প্রকাশ করেন নি। এবং তারা এ বিষয়ে জাতীয় ভিত্তিক গ্রহণযোগ্য জরিপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বার বার কথা বলেছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন সময়ে তাদের কর্মসূচির প্রয়োজনে ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু জরিপ চালিয়েছে; এসব সূত্রের তথ্যসমূহ আন্তর্জাতিক জরিপ বা ধারণাকে সমর্থন করে। সে অনুযায়ী ধরে নেয়া যায় বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা এককোটি ৪০ লক্ষ। এর মধ্যে ৪৯% নারী প্রতিবন্ধী ধরে নিয়ে, বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার নারী প্রতিবন্ধী রয়েছেন বলে অনুমান করা হয়।

প্রতিবন্ধী নারীদের সামাজিক অবস্থা
প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে বেসরকারি সংগঠনসমূহ কর্তৃক পরিচালিত ক্ষুদ্র পরিসরের জরিপ/গবেষণা থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, প্রতিবন্ধিতা ব্যক্তির জীবনে বঞ্চনা ও বিচ্ছিন্নতার একটি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে। যেমন, কানে শুনতে না পেলে সামাজিক স্বীকৃতি মেলে না, যা তাকে প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে, যা তাকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেয়, এভাবে জীবনব্যাপী বঞ্চনা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। প্রায় সব এলাকা ও গোষ্ঠীতে, এমনকি সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অবহেলা ও বিচ্ছিন্নভাবে দেখার ও রাখার দৃষ্টিভঙ্গি প্রবলভাবে বিদ্যমান।

এই প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যের ভিত্তি এবং পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্তকরণ ও অংশগ্রহণের প্রধান অন্তরায়। তারা কেবল প্রাত্যহিক জীবনেই এমন বৈষম্যের শিকার হয় তা নয়, দুর্যোগকালীন অবস্থায়ও এ বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। যখন তারা নিরাপদ আশ্রয়, ত্রাণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষ কোনো সহায়তা পায় না।

এই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক ও বঞ্চনার শিকার নারী প্রতিবন্ধীরা, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী কন্য শিশুরা। এ অবস্থায় অধিকাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজেকে সমাজের অন্যদের চেয়ে হীন বা বোঝা মনে করে; যেকোনভাবে ন্যূনতম জীবনধারণ করে বেঁচে থাকাই তাদের একমাত্র চাওয়া হয়ে ওঠে। প্রতিবন্ধিতা ও লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে প্রতিবন্ধী নারীরা দ্বিগুণ প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। নারী প্রতিবন্ধী একই ধরন ও মাত্রার পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাত্রায় বঞ্চনার ও বৈষম্যের শিকার; বিশেষ করে যখন স্ত্রী হিসেবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অনেক কাজ অন্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী করতে সক্ষম হয় না। বিয়েসহ জীবনের অনেক সাধারণ প্রত্যাশাই পূরণের সম্ভাবনা একজন পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চেয়ে নারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কম।

পরিবারে প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার
পরিবারে প্রতিবন্ধী নারীদের বেড়ে ওঠার অধিকার, সবার সাথে বসবাসের অধিকার, সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার, পারিবারিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের অধিকার, পরিবারের নিরাপত্তার অধিকার, বিয়ে করা এবং সন্তান ধারণের অধিকার, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার ও সর্বোপরি রাজনৈতিক, তথা ভোট প্রদানে প্রতিবন্ধী নারীর অধিকার রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অবস্থা
বাংলাদেশ ‘সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম’-এ (১৯৯০) ও বিশেষ শিক্ষা কর্মসূচিসহ (১৯৯৪) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন ও স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে শিশুর ভর্তি হার যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে (৯৭%) কিন্তু প্রতিবন্ধী শিশুদের মাত্র ১১% শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত(সিএসআইডি)। অথচ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিবন্ধী শিশু নিয়মিত সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই লেখাপড়া করতে সক্ষম। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনসহ কিছু আনুষাঙ্গিক সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

তবে বাংলাদেশে মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্যমান বাধা রয়েছে। যেমন, এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার দায়িত্ব সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়।

প্রতিবন্ধী নারীদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবন্ধী নারীদের মুক্ত চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিবন্ধী বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক দায়িত্ব।

প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, চাকুরি, আয় ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে খুব সমান্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্ভাবনা ও সামর্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তা/প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতিবাচক ধারণাও এক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের কুসংস্কার, অজ্ঞতা, বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ দিনের পর দিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। তারা তাদের মেধা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ পর্যন্ত পাচ্ছে না।

ইতোমধ্যে সরকার অনাথ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি চাকুরিতে ১% কোটা স্থির করেছে। সম্প্রতি ক্যাডার সার্ভিসের চাকুরিতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১% কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের হার খুবই কম।

আয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারি ব্যাংকসমূহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋন প্রদানের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচীর অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নেবার সুযোগ রয়েছে। তবে, বিভিন্ন কারণে খুব কমসংখ্যক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এ কর্মসূচীর সুফল ভোগ করতে পারছে।

সম্প্রতি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করছে; কিন্তু তা তাদের সুনির্দিষ্ট চাকুরি-নীতিমালা অনুসরণ করে নয়। ফলে সেখানেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নানা ধরনের হয়রানি, নির্যাতন ও শোষণের শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবন্ধী নারীদের সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের পুঁজির সংস্থান করে দিতে হবে। প্রতিবন্ধী নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

শেষ কথা
তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন সমূহও অধিকতর সংগঠিত ও দক্ষ হয়েছে। এখন এসব আলোচনা ও উদ্যোগকে মানবাধিকার ভিত্তিক টেকসই উন্নয়নের ধারায় পরিচালিত করা জরুরি। যেন আমাদের সময় ও সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন ত্বরান্বিত হয়। এক্ষেত্রে আমাদের চিন্তু-ভাবনা ও কর্মের মূল ভিত্তি হতে হবে, জাতিসংঘ ঘোষিত ‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার সনদ (২০০৬)’।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত