বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তাশফিন কীভাবে বন্দুকধারী হয় ?



dআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘ও খুব ভাল ছাত্রী ছিল। ক্লাসে কোনও লেকচার মিস করতো না। আমরা কোনও ক্লাস মিস করলে তার কাছ থেকে টুকে নিতাম। সে সারাক্ষণ নোট তৈরি করতো। আমরা তার নোট পড়তাম’।

মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (বিজেড) ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি বিভাগের ছাত্রী তাশফিন মালিক সম্পর্কে এই মূল্যায়ন করছিলেন তার সহপাঠী ফারহান সিদ্দিক।
২৭ বছর বয়েসী ফারহান ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল অব্দি বিজেড ইউনিভার্সিটিতে তাশফিনের সাথে একই সাথে ফার্মা ডি (ডক্টর অব ফার্মাসি) অধ্যয়ন করেছেন। তার ভাষায়, তাশফিন আপাদমস্তক বোরকায় মুড়ে ক্লাসে আসতো।
৫ বছরে তার চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায়নি কেউ। সে ছিল স্বল্পভাষী। নিচু কণ্ঠে কথা বলতো। তার উপর ভাল ছাত্রীর খ্যাতি। সব মিলিয়ে ক্লাসের সবার সুনজরে ছিল সে।

এই তাশফিনকে এখন বিশ্ববাসী চেনে ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দুকধারী হিসেবে।

গত বুধবার সে ও তার স্বামী রিজওয়ান ফারুকের হামলায় ১৪ জন মানুষ নিহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে মারা যায় তাশফিন ও রিজওয়ান।

পরে তাশফিনের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে জানা গেছে, সে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছিল। বিবাহসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রে আসবার আগে তাশফিন পাকিস্তানে বিজেড ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

তার সহপাঠী ফারহান বিবিসি উর্দূকে বলছিলেন, তারা যখন জানতে পারেন তাদের তাশফিনই ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দুকধারী, তখন তারা বিস্মিত হয়ে পড়েন। ‘যে তাশফিনকে আমরা চিনি, যার সাথে আমাদের দীর্ঘ ৫ বছর কেটেছে, তাকে কখনো এমনধারা দেখিনি আমরা’।

কিন্তু গণমাধ্যমে যখন বিস্তারিত তথ্য আসতে শুরু করলো, তখন তারা মিলিয়ে দেখেন এই বন্দুকধারী তাশফিনই তাদের সেই সহপাঠী। মুলতানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র এবং ছাত্রীদের মধ্যে খুব একটা বন্ধুত্ব হবার চল নেই। ছেলেতে মেয়েতে কথাবার্তাও বিশেষ হয় না।

ফলে তাশফিনের সাথেও ফারহানের কথাবার্তা আলোচনা ছিল সীমিত পরিসরেই।

ক্লাসের বাইরের কোথাও বেড়াতে যাওয়া বা আড্ডা দেবার মতো সম্পর্ক তাদের মধ্যে ছিল না।

‘সহপাঠী হিসেবে তার নাম জানতাম, সে ভাল ছাত্রী সেটা জানতাম, তার বাইরে আর কিছুই জানতাম না’, বলছিলেন ফারহান সিদ্দিক।

খবর বিবিসির।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত