রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ম্যাচ শেষে যা বললেন মাশরাফি ও সাকিব



2স্পোর্টস ডেস্ক :: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের প্রথম দুই আসরের ট্রফি উঠেছিল মাশরাফির হাতে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক হিসেবে এবারও কি তাঁর মাথায়ই উঠবে বিজয়ীর মুকুট?
চিন্তাটা যে মাথায় একেবারেই উঁকি দেয়নি, তা নয়। তবে ম্যাচের আগে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরে যাক তা চাননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। টানা তিন বিপিএলের ফাইনাল খেলার লোভনীয় হাতছানি থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন চোখ। মাথায় ছিল শুধু রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। এ ম্যাচে জিততেই হবে!
মিরপুরে কাঙ্ক্ষিত সেই জয় কাল পেয়ে গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। টানা তিন বিপিএলের ফাইনাল খেলার আনন্দ প্রকাশেও তাই আর বাধা থাকল না অধিনায়ক মাশরাফির, ‘পর পর তিন বিপিএলের ফাইনালে খেলতে পারা অবশ্যই আনন্দের। তবে আগের দুবারের তুলনায় এবারের আনন্দটা বেশি। আগের দুবার আমার দলে অনেক তারকা ক্রিকেটার ছিল। সে তুলনায় এবারের দল অনেক সাদামাটা। এ কারণেই বেশি ভালো লাগছে।’ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের প্রথম দুই আসরের ট্রফি উঠেছিল মাশরাফির হাতে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক হিসেবে এবারও কি তাঁর মাথায়ই উঠবে বিজয়ীর মুকুট?
স্বপ্নটাতে কালই ডুব দিতে চাননি মাশরাফি। আগে উপভোগ করতে চাইলেন ফাইনালে ওঠার আনন্দ। বিপিএলের মতো স্নায়ুচাপে ভরা টুর্নামেন্টে এত দূর আসাটাকেও বড় সাফল্য মনে হয় তাঁর কাছে। পেছনের কুশীলবদের মধ্যে বিশেষভাবে বললেন পাকিস্তানের আসহার জাইদি আর পেসার আবু হায়দারের কথা। কালকের ম্যাচে কুমিল্লার রান ১৬০ ছাড়িয়ে যাবে সেটা একসময় ভাবেননি অধিনায়কও। জাইদির ব্যাটে সম্ভব হয়েছে সেই ‘অসম্ভব’। বল হাতেও টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোর মতোই উজ্জ্বল। ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রানের সঙ্গে ১১ রানে ৪ উইকেট ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিয়েছে তাঁর হাতেই। মাশরাফির কণ্ঠে তাই তাঁর অকুণ্ঠ প্রশংসা, ‘জাইদি যেভাবে সার্ভিস দিয়েছে সেটা অবিশ্বাস্য। ওর কাছে এতটা কেউ আশাও করেনি।’
কাল শেষ দিকে জাইদি-তাণ্ডব না হলে হয়তো ১৪০-১৪৫ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো কুমিল্লাকে। উইকেটের আচরণ দেখে মাশরাফিরও শুরুতে মনে হচ্ছিল ১৩০-১৩৫ রানই ভালো স্কোর এখানে, ‘টসের আগে দেখলাম উইকেটে হাফ ইঞ্চির মতো নখ দেবে যাচ্ছে। এত নরম উইকেটে আগে ব্যাট করা কঠিন।’ কুমিল্লার ওপেনার ইমরুল কায়েসের তো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই হলো এই সমস্যার, ‘খুব নরম ছিল উইকেট। পা দিয়ে যখন দাগ দিচ্ছিলাম, মাটি উঠে যাচ্ছিল।’
এমন উইকেটে ১৬৪ রানের লক্ষ্য! ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারলে জয়টাকে কঠিন মনে হচ্ছিল না মাশরাফির। রংপুর রাইডার্সের ড্রেসিংরুমেও তখন এই ভাবনাই ছিল এবং তা বোঝা গেল সাকিব আল হাসানের কথা থেকেই। ‘এটা ১৩৫-১৪০ রানের উইকেট। ১৬০-এর অবশ্যই নয়। আমার মনে হয় না ওরা ১৬০ করে ফেলার পর আমাদের খেলোয়াড়েরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল যে ওই রান তাড়া করা যাবে’—সংবাদ সম্মেলনে অকপট রংপুর অধিনায়ক।
তবে কুমিল্লার এই রানের পেছনে ভাগ্যেরও ভূমিকা দেখছেন সাকিব, ‘যে যেভাবে ইচ্ছে ব্যাট চালিয়েছে। যেটা ব্যাটে লাগেনি সেটা উইকেট মিস করে গেছে। যেটা ব্যাটে লাগছে সেটা ফাঁকা জায়গায় পড়ছে অথবা বাউন্ডারি হয়েছে।’ তাই বলে লুকাতে চাননি নিজেদের ব্যর্থতা। দলের বোলিং-ব্যাটিং দুটো নিয়েই আক্ষেপ আছে। সন্তুষ্ট নন নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও। জাইদির বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে যেভাবে মাহমুদুল হাসানের ক্যাচ হলেন, সেটা বাজে শটের স্বীকৃতি পাচ্ছে সাকিবের কাছেও, ‘ওই পরিস্থিতিতে ওটা অবশ্যই বাজে শট ছিল। আরও ভালোভাবে চিন্তা করে ব্যাটিং করা যেত।’
তবে রংপুরের অধিনায়ক এসব আক্ষেপে ভেঙে পড়ছেন না। ফাইনালে যাওয়ার আরও একটা সুযোগ আছে। আজকের সেই ম্যাচকে সামনে রেখে সাকিবের নতুন শপথ, ‘এখনো আরেকটা সুযোগ আছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে আমরা যেন তার জন্য প্রস্তুত থাকি।’
মাশরাফির আরেকটি শিরোপা জয়ের পথে সাকিব কি পারবেন আরও একবার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে?

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত