শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রবাসে নির্যাতিত বাংলাদেশের নারী কর্মী: প্রশ্নবিদ্ধ সাফল্য



full_721086419_1451281669প্রবাস ডেস্ক :: মধ্যপ্রাচ্যের সৌদিআরব, ওমান ও দুবাই মিলে গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরে ১৯০ জন নারী শ্রমিক নির্যাতিত হয়েছেন। এই তিন দেশে আগস্টে নির্যাতিত হয়েছে ৭৭, সেপ্টেম্বরে ৫৩ ও অক্টোবরে ৬০ জন নারী। গড়ে প্রতিমাসে ৫০ জন করে ওই তিন দেশ থেকে ৬শ’র বেশি নারী কর্মীর অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের অধিকাংশের কোনো সুরাহা হয়নি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় চলতি বছর লক্ষ্যণীয় সাফল্য অর্জন করলেও বিদেশে বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী নির্যাতনের ঘটনায় তাদের এই সফল্যও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এ বছর ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রবাসে কর্মী হিসেবে পাঠানো মন্ত্রণালয়টির সাফল্যের মধ্যে অন্যতম, যেখানে গত বছর ৪ লাখেরও কম কর্মী প্রবাসে গিয়েছিল। তবে এ অর্জন ম্লান হয়েছে প্রবাসে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায়। আর কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে না পারায় পুরো বছরই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মন্ত্রণালয়টিকে।

অপরদিকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মী মারা গেছে ১৬০ জন। জানুয়ারিতে ১২, ফেব্রুয়ারিতে ৭, মার্চে ১২, এপ্রিলে ১৪, মে ১৫, জুনে ১৯, জুলাইয়ে ২১, আগস্টে ১৮, সেপ্টেম্বরে ১৫, অক্টোবর ১২ ও নভেম্বরে ১৫ জন প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন দেশের মাটিতে মারা গেছে। এদের বেশিরভাগই স্ট্রোক ও দুর্ঘটনায় মারা যায়। স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম।

নারী নির্যাতনের কারণ হিসেবে সরকারের নীতিমালা, দূতাবাসগুলোর দায়িত্বে অবহেলা ও প্রাইভেট এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্যকে দুষলেন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী। আর বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে উভয় দেশের মধ্যে সচেতনতা না থাকার ঘাটতি বলে জানালেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট অনিন্দ্য দত্ত।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘নারী নির্যাতনের কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে প্রবাসী নারী শ্রমিক প্রেরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকা, নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না করা, প্রাইভেট এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য ও দূতাবাসগুলোর দায়িত্ব অবহেলা। এগুলো একটির সঙ্গে অপরটি সম্পর্কযুক্ত।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের যদি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকত তাহলে সেখানে অবশ্যই গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু ক্যাটাগরি থাকত। এতে প্রাইভেট এজেন্সিগুলো ইচ্ছেমতো কর্মী পাঠাতে পারত না। তারা বিদেশে এমন নারী শ্রমিক পাঠায় যারা নিজের নামও লিখতে পারে না। একটি ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন ভাষা ও কালচারের সঙ্গে মিশতে সমস্যা হবেই। যে কারণে বেশি নির্যাতন হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে।’

অনিন্দ্য দত্ত বলেন, ‘নির্যাতনের কারণ হচ্ছে আমরা যে দেশে যাচ্ছি সে দেশের কালচারের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে না পারা। ভাষাগত সমস্যা বড় কারণ। লোক পাঠানোর আগে উভয় দেশেই সচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা নির্যাতিত হচ্ছেন তাদের ব্যাপারে দ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরকারের পলিসিগত ভুলের কথা বললেন ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক জালাল উদ্দিন শিকদার। তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু কোয়ান্টিটি দেখে, কোয়ালিটি দেখে না। তারা যেকোনো উপায়ে চায় রেমিটেন্স আসুক। যে কারণে প্রতিকূল আবহাওয়ায় অমানবিকভাবে কাজ করে অকালেই মারা যাচ্ছে এসব প্রবাসী নারী শ্রমিক।’

তবে সব অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দার বলেন, ‘অনেকেরই ভালো না লাগার কারণে অভিযোগ সাজাচ্ছেন। কেউ বা আশা অনুযায়ী কাজ না পাওয়ায় ঢালাও অভিযোগ করছেন। বিষয়গুলো তদন্ত করছি। তারপর ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে যারা সত্যিই নির্যাতনের শিকার, তাদেরকে আমরা দ্রুত সেফ হোমে নিয়ে আসছি। আবার যে মালিক এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত