রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কিবরিয়া হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন



kibriaa20151118093615স্টাফ রিপোর্টার
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান এর আদালতে বুধবার এ আবেদন করার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি কিশোর কুমার কর।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি কিশোর কুমার কর জানান, আইন মন্ত্রনালয়ে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার তারিখ বর্ধিত করার জন্য আবেদন করা হয়। আইন মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আবেদন করে রাষ্টপক্ষ। আইন মন্ত্রনালয়ে এ আবেদনের ব্যাপারে আদালতকে অবগত করা হলে আদালত এ মামলায় বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সাক্ষ্যগ্রহণ করেননি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি কিশোর কুমার কর আরোও জানান, বুধবার কারান্তরীণ ১৪ আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া ১২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। কিবরিয়া হত্যা মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৪ জন কারাগারে ও ১০ জন পলাতক রয়েছেন।

এর আগে এ মামলায় ২৪ ডিসেম্বর সাক্ষী না আসায় এবং পর্যাপ্ত আসামি আদালতে হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর সাক্ষী না আসায় এবং আসামি হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যা। ৩ ডিসেম্বর পর্যাপ্ত আসামি উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। ২ ডিসেম্বর সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় এবং পর্যাপ্ত আসামি আদালতে হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

গত ২৬ নভেম্বর হরমুজ আলী ও শমসের মিয়া নামক দুইজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৫ নভেম্বর আদালতে পর্যাপ্ত আসামি হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। গত ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন ২ জন। ১৯ নভেম্বর হরতাল থাকায় আদালতে আসামি ও সাক্ষীরা হাজির হতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। গত ১১ নভেম্বর আদালতে পর্যাপ্ত আসামি হাজির না থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরদিন সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়। গত ৫ নভেম্বর আবদুর রউফ ও এরফান আলী নামক দুইজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরও আগে গত ৪ নভেম্বর এবং ২৮ ও ২৯ অক্টোবর আদালতে পর্যাপ্ত আসামি উপস্থিত না থাকায় আলোচিত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

গত ২১ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেন আবদুল মতিন, আবদুল কাইয়ুম ও ঈমান আলী। গত ২১ সেপ্টেম্বর আলোচিত এই মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওইদিন বাদিপক্ষ আদালতে স্বাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় বিচারক ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন আদালতে সাক্ষ্য দেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান।

অপরদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে হবিগঞ্জ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত। ৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে বিচারক আতাবুল্লাহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ফেব্রুয়ারি।

মঙ্গলবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১১ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউছকে হাজির করা হয়নি। এছাড়া জামিনে থাকা ৮ আসামীও আদালতে হাজিরা দেন। এ মামলায় ১০ আসামী পলাতক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত