মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান :৫ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ‘পেশাদার নয়’



4নিউজ ডেস্ক ::
নারায়ণগঞ্জ বাবুরাইলে এক পরিবারের পাঁচজনকে হত্যায় ঘটনায় জড়িতরা পেশাদার খুনি নয় ধারণা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।লাশের সুরৎহাল ও বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে এমনটাই ধারণা করছে সিআইডি।এদিকে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ রোববার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন।শনিবার নারায়ণগঞ্জ নগরীর বাবুরাইল এলাকার একটি বাসায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো নগরীর মণ্ডলপাড়ায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।নিহত ব্যক্তিরা হলেন তাসলিমা বেগম (৪০), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) এবং তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)।পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত লামিয়ার স্বামী শরীফ মিয়াসহ দুজনকে আটক করেছে। শরীফ ঢাকায় একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করেন। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে যাওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।
নিহত তাসলিমার খালাতো বোন নয়নতারা জানান, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ভেলাবাড়ি গ্রামে তাসলিমাদের বাড়ি। তার বাবার নাম বারেক মিয়া। গত শুক্রবার বিকেলে তাসলিমার ভাই মোরশেদুল নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকায় তাসলিমার ভাড়া বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিন রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করেও তাসলিমার মা মোর্শেদা বেগম মোরশেদুল বা তাসলিমাকে পাচ্ছিলেন না। সকালে মোর্শেদা বেগম নারায়ণগঞ্জে তাদের কয়েকজন আত্মীয়কে ফোন করে জানান, মোরশেদুল ও তাসলিমা ফোন ধরছেন না। তাসলিমার বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন তিনি।দুপুরের পরে কয়েকজন আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখে ফিরে যান। সন্ধ্যায় ওই ঘর থেকে গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী তাসলিমার আত্মীয়দের ও পুলিশকে খবর দেয়। রাত ৮টায় পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পাঁচজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে।নগরের দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকার প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকত তাসলিমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামের পরিবার। শফিকুল ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালান।
নিহত তাসলিমা ও মোরশেদুলের মা মোর্শেদা বেগম বলেন, তার ছেলে মোরশেদুলের সঙ্গে ঢাকার একটি পক্ষের বিরোধ ছিল। তবে কী নিয়ে বিরোধ, তা তিনি জানেন না।তাসলিমার খালাতো বোন নয়নতারার স্বামী মোহাম্মদ মিলন বলেন, “সুদের টাকা নিয়ে নিহত মোরশেদুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকার একটি পক্ষের বিরোধ ছিল। সে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।”
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী ও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার মহিদউদ্দিন বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। কারণ, বাইরে থেকে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় প্রতিবেশী বা অন্য কেউ কোনো শব্দ পায়নি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পূর্ব পরিচিত।”

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত