সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কিয়ামতের দিন সুন্নত নামাজ ফরজের ঘাটতি পূরণে কাজে আসবে



sunanat_545520169ইসলাম ডেস্ক::
প্রত্যেক সজ্ঞান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ-মহিলার ওপর প্রত্যেহ পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ ফরজ। এ সব নামাজের ফজিলতের কথা যেমন বর্ণিত হয়েছে, তেমনি এর গুরুত্ব ও আবশ্যকীয়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায়।

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দাকে আল্লাহর সামনে নামাজের হিসাব দিতে হবে। নামাজি ব্যক্তির মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে তার নামাজের পরিশুদ্ধতার নিরিখে। তাই সেটা হতে হবে- সঠিক পদ্ধতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো তরিকায়। তিনি যেভাবে নামাজ পড়েছেন, পড়তে বলে গেছেন, সেভাবে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে।

শরিয়তের প্রতিটি হুকুম পালনের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে সামনে রাখা- একান্ত অপরিহর্য বিষয়। কেননা, তার জীবনাদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ ব্যতীত আল্লাহতায়ালার আদেশ ও নিষেধাবলির পালন পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তার আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ ও তাকে ভালোবাসার মাধ্যমে অর্জিত হয় আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।’ -সূরা আল ইমরান : ৩১

ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজের গুরুত্ব কম নয়। কারণ, যথাযথভাবে সঠিক পদ্ধতিতে গুরুত্ব সহকারে সুন্নত নামাজ আদায় করার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুপম আদর্শ অনুসরণ ও তার প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সুন্নত নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়, কিয়ামতের দিন কারো ফরজ নামাজে ঘাটতি থাকলে, এ নামাজ দ্বারা আল্লাহতায়ালা সেই ঘাটতি পূরণ করবেন।

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ও পরে বারো রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে। এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আদায় করতেন এবং সাহাবাদের আদায় করতে বলতেন। তবে কখনো কোনো কারণ ছাড়া তা আদায় করা থেকে বিরত থাকতেন না। অসংখ্য হাদিসে সুন্নত নামাজের ফজিলতের কথা বলা হয়েছে । উম্মে হাবিবা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ও দিনে বারো রাকাত নামাজ আদায় করলো, জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করা হলো। (সেগুলো হলো) জোহরের (ফরজ নামাজের) পূর্বে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, ইশার পর দুই রাকাত, ফজর নামাজের পূর্বে দুই রাকাত। – তিরমিজি

ফরজ নামাজ শেষে সুন্নত নামাজ আদায় না করে অনেক মুসল্লিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। (যদিও এ নামাজ মসজিদের ভিতরে পড়া আবশ্যক নয়, তথাপি আপাত-দৃষ্টিতে দেখা যায়- মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে অলসতাবশতঃ অনেকে এ নামাজ আদায় করতে পারে না বা কর্মব্যস্ততার কারণে সুযোগ হয় না।) বিশেষভাবে এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় জুমার দিন শুক্রবারে। জুমার দু’রাকাত ফরজ নামাজের আগে ও পরে চার রাকাত করে আট রাকাত সুন্নত নামাজ রয়েছে।

নামাজান্তে সুন্নত নামাজ আদায় না করে উঠে আসা; একদিকে যেমন অন্যান্য মুসল্লিদের ইবাদতমগ্নতায় ব্যঘাত ঘটায়, নামাজের বিনম্র্রতা নষ্ট করে। অন্যদিকে নামাজ পড়তে আসা মুসলিম শিশুরাও এ ধারাটি অব্যাহত রাখতে শেখে। বড়দের দেখাদেখি তারাও এভাবে সংক্ষিপ্তভাবে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নামাজসহ ইসলামের প্রতিটি বিধানের ব্যাপারে প্রজ্ঞাবানদের সতর্ক থাকতে হবে। কারো ইবাদতে কোনো ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে, তাকে শুধরে দেওয়া প্রতিটি জ্ঞানবান মুসলমানের পরম দায়িত্ব। অন্যথায় গোটা জীবন ভুল পদ্ধতিতে ইবাদত-বন্দেগি করে আখেরাতে ফলাফল আসবে শূন্য। তাই আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম পালন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চায় সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত