সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচনের বিএনপি প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে: বিএনপি



23নিউজ ডেস্ক :: রুহুল কবির রিজভীইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের গ্রেফতার ও গুম করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
শনিবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ অভিযোগ করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের গ্রেফতার ও গুম করছে। সাতক্ষীরার যুবদল নেতা নির্বাচনের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জয়পুরহাটে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রব বুলুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। অবিলম্বে তার খোঁজ এবং আদালতে হাজির করার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্বৈরাচারী শাসকেরা জনগণ ও গণতন্ত্রকে ভয় পায় মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন জনগণের সেবক নয় তারা এখন শেখ হাসিনার বাহিনী। বিরোধী দলবিহীন এক দলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার এই কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। তার সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। তার নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাব ও পুলিশকে চিঠি দিয়েছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার গণতন্ত্র হত্যার কিলিং মিশনে দায়িত্ব দিয়েছিল বিচারপতি খায়রুল হক এবং শামসুদ্দিন মানিকদের। সেই মিশন তারা বাস্তবায়ন করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে। এই বিচারপতি মানিকের ছিল দ্বৈত নাগরিকত্ব। তার দেশের প্রতি কোনও আনুগত্য নেই। এই মানিক বিচারপতিদের নিরপেক্ষতার পবিত্রতাকে অপবিত্র করেছেন। তাই প্রধান বিচারপতির কাছে আহ্বান, তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নেবেন।

রিজভী বলেন, এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। তাই যুদ্ধের ময়দানে আরামদায়ক প্রাচীর তুলে সেখানে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা যায় না। এই স্বৈরাচারী জালিম সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যে রক্তঝরা আক্রমণ চালাচ্ছে তাকে কাউন্টার অ্যাটক করতে হবে। তবে আমাদের প্রতি আক্রমণ হচ্ছে জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসের গণআন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে, এছাড়া আর বিকল্প কিছু নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত