শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা শেষে ক্লাসেই শ্লীলতাহানি শিক্ষিকার



29নিউজ ডেস্ক :: পরীক্ষা শেষে খাতা গুছিয়ে রাখছিলেন শিক্ষিকা। সেই সময় স্কুলের ক্লাস রুমের মধ্যেই তার শ্লীলতাহানি করে পরীক্ষার্থীদের কেউ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষিকা।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বেলডাঙার বড়ুয়া শরৎপল্লি উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্কুলের সহ-শিক্ষিকারাও। স্কুলের ২১ জন শিক্ষিক, তারা এক যোগে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি, নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব তথা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কাছে।
তবে, ওই অভিযোগ এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাদের উপরে ক্রমাগত অভিযোগ প্রত্যহারের জন্য চাপও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকারা।
এমনকী, শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন তাদের পরীক্ষক হিসেবে ক্লাসে ঢুকতে না দিয়ে, স্কুলেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন। প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের প্রতিলি ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি ‘লঘু’ করে দেখাতে চাইছেন ওই প্রধানশিক্ষিকা। নিরপত্তাহীনতায় ভোগার সব চেয়ে বড় কারণ এটাই বলে জানাচ্ছেন ওই শিক্ষিকারা।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রধানশিক্ষিকা সুপ্রীতি ধরের দাবি, ‘বৃহস্পতিবার পরীক্ষার শেষে খাতা সংগ্রহের সময় পিছন থেকে এক পরীক্ষার্থী অসভ্য আচরণ করেছে বলে ওই শিক্ষিকা আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু কে সেই পরীক্ষার্থী তা চিহ্নিত করতে পারেননি বলেই ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।’
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পূরবী বিশ্বাস দে অবশ্য ওই শিক্ষিকাদের সঙ্গে এ দিন দেখা করেছেন বলে জানা গেছে। পূরবীদেবী ওই ‘সন্ত্রস্ত’ শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এ ব্যাপারে বেলডাঙা থানার ওসি মৃণাল সিনহা বলেন, ‘শিক্ষিকাদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করার চেষ্টাও চলছে।’
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, ওই বালিকা বিদ্যালয়ে সিট পড়েছিল স্থানীয় হরেকনগর উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। নিগৃহীত শিক্ষিকার অভিযোগ, ‘প্রতিটি ঘরে সাধারনত তিন জন করে শিক্ষকের ডিউটি পড়ে। সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর ঘরে বৃহস্পতিবার একা আমাকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সুযোগে পিছন থেকে আমার সঙ্গে অভব্যতা করা হয়েছে।’ তার দাবি, প্রতিকারের বদলে ব্যাপারটা ‘মিটিয়ে নেওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘পরে অন্য শিক্ষিকারা আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমরা সবাই মিলে প্রধান শিক্ষিকার কাছে গিয়েছিলাম। উনি আমাদের ২১ জন শিক্ষিকাকে ক্লাসে যেতে না দিয়ে স্টাফ রুমে আটকে রাখেন।’
শিক্ষিকারা অনেকে না আসায় তাকে যে ওই ক্লাসে একাই পাঠিয়েছিলেন প্রধানশিক্ষিকা তা অবশ্য মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিকা কম থাকায় কী করব, ওকে একাই পাঠিয়েছিলাম।’
তবে তিনি বিষয়টি ‘লঘু’ করে দেখানোর অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীদের সকলেই ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল। তা তো আমার প্ররোচনায় নয়!’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত