মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এবারও গ্রীষ্মে ভোগাবে বিদ্যুৎ!



16নিউজ ডেস্ক : গ্রীষ্ম মওসুমে চাহিদা ও উৎপাদন সমন্বয়ে কার্যকর কোনো সমাধান পাচ্ছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। বাড়তি চাহিদা মেটাতে ফি বছর সার কারখানা বন্ধ, লোডশেডিংসহ তাৎক্ষণিক কিছু চেষ্টা হলেও মূল সংকট মিটছে না। আগামী মওসুম থেকে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রীষ্ম মওসুমের মার্চ থেকে মে-জুন পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াটে। স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুতের এ চাহিদা ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াটে উঠানামা করে। মওসুমের এ চার মাসে সেচে চাহিদা বাড়ে কম-বেশি এক হাজার মেগাওয়াট। স্বাভাবিক সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদার সঙ্গে এ চার মাসে বাড়ে আরো দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বছরের অন্য সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টনে সমন্বয় ঠিক থাকছে। সমস্যা গ্রীষ্মে। গরমের তীব্রতায় গ্রাহকের পাশাপাশি ইরি-বরো সেচে বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা। স্বাভাবিক সময়ের হিসাবে বছরের এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের মতো।

বিদ্যুৎ বিভাগের উৎপাদন ও বিতরণের এ পরিসংখ্যান সম্পর্কে দ্বিমত আছে বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, সক্ষমতা আর উৎপাদন এক বিষয় নয়। পিডিবির যাই বলুক প্রকৃত উৎপাদন সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হবে না বলে করছেন এ বিশেষজ্ঞরা। সরকারকে খুশি করতে উৎপাদনের বাড়তি এ তথ্য দিচ্ছে পিডিবি।

বিতরণ ব্যবস্থায় ক্রুটির কথা বলে দুর্বলতা আড়াল করতে চাইছে পিডিবি- এ অভিযোগ গাহকদের। তারা বলছেন ,রাজধানী ঢাকাসহ বড় কয়েকটি নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি ঠিকঠাক থাকলেও অনেক জেলা শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ থাকছে না ঘণ্টার পর ঘন্টা। সংবাদ মাধ্যমেও এ খবর হরহামেশাই প্রকাশিত হচ্ছে।

বাড়তি এ চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (উন্নয়ন) প্রধান করে। সদস্য সচিব করা হয়েছে ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার (এনএলডিসি) এর মহাব্যবস্থাপককে। সদস্য করা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়), পিডিবির দুই সদস্য উৎপাদন ও বিতরণ, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি দুই সদস্য-বিতরণ ও পরিচালন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক, ঢাকার দুই কোম্পানি ডেসকো ও ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ কমিটির প্রধান কাজ হবে বিতরণ কোম্পানির মধ্যে লোড বরাদ্ধে সমন্বয় করে লোড ব্যবস্থাপনা করা। একইসঙ্গে সংস্থা বা কোম্পানির বিতরণ এলাকা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান করা, কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্রিডের ত্রুটি দূর করতে পরামর্শ প্রদান, ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা তদারকি করা, গ্রিড উপকেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন ও উপকেন্দ্রের চাহিদার ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে লোড বরাদ্দ করা, স্থানীয়ভাবে লোডশেডিংয়ের সময় প্রচার ও সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।

উৎপাদন বাড়াতে দিনে অতিরিক্ত এক হাজার ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দৈনিক ৯১৪ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস দেয়া সম্ভব হবে না। চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম গ্যাস দিয়ে বাড়তি বিদ্যুত চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পিডিবি।

পিডিবির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অনান্য বছরের মতো এ মৌসুমেও সার কারখানা বন্ধ করে ওই গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধুমাত্র যমুনা ছাড়া প্রয়োজনে সব সার কারখানা বন্ধের বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করেও সংকট মিটবে কি না তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ বিষয়ে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন গ্রীষ্মে খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে সেচকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এজন্য সবাইকে একটু কষ্ট করতেই হবে, একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত