শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে!



25নিউজ ডেস্ক: ফিলিপাইনের কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিদিনই নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে দশ কোটি ডলার লোপাট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে খবর বের হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট হওয়া দশ কোটি ডলারের যে অংশ ফিলিপাইনে পাচার হয়েছে তা ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন হাত ঘুরে চলে গেছে অন্য দেশে। ফিলিপাইনের ইংরেজি দৈনিক ইনকোয়ারারে এমন তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থ কীভাবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে ফিলিপাইনের ব্যাংকিং সিস্টেমে ঢুকল, সেখান থেকে কীভাবে নানা হাত বদল হয়ে তা বিভিন্ন জায়গায় চলে গেল-এ সম্পর্কে ফিলিপাইনে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বেরিয়েছে ফিলিপাইন দৈনিক ইনকোয়ারারে।

তাদের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ফিলিপাইনের ব্যাংকিং ইতিহাসে এত বড় মানি লন্ডারিং এর ঘটনা এটাই প্রথম। দেশটির স্থানীয় একটি ব্যাংক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম এই অর্থ লেনদেনের ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এদের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গত মাসের পাঁচ তারিখে প্রথম ৮১ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার করা হয়।

নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে প্রথম অর্থ যায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে – ব্যাংক অব নিউইয়র্ক, সিটি ব্যাংক এবং ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকে।

তারা এই অর্থ পাঠায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে। ফিলিপাইনের মাকাটি শহরের যে শাখায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসে, সেই শাখার প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টি ব্যাংকের উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এই লেনদেনের প্রত্যেকটি ধাপ সম্পর্কে এই ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগাগোড়াই জানতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এই ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লোরেনযো ট্যান এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

ব্যাংকের তরফ থেকে দেয়া এক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে ফিলিপাইনের পত্রপত্রিকায়। তাতে ব্যাংকটি এই অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

পুরো ঘটনাটি এখন তদন্ত করে দেখছে ফিলিপাইনের সেনেট, ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং ফিলিপাইনের ‘এমিউজমেন্ট এন্ড গেমিং কর্পোরেশন’ যারা সেখানকার জুয়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে হাত বদল হয়েছে, তার একটা মোটামুটি চিত্র দিয়েছে ফিলিপাইনের ডেইলি ইনকোয়ারার পত্রিকা।

তাদের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে এই অর্থ তাদের ক্লায়েন্টদের মাধ্যমে চলে যায় স্থানীয় এক ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর কাছে। ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানীয় মূদ্রায় বিনিময়ের পর এই পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি পেসোতে।

এরপর এই অর্থ চলে যায় তিনটি বড় ক্যাসিনোতে। এগুলো হচ্ছে সোলারি রিসোর্ট এন্ড ক্যাসিনো, সিটি অব ড্রিমস এবং মাইডাস।

পুরো অর্থ খরচ করে সেখানে জুয়া খেলার জন্য চিপস কেনা হয়েছে। এরপর জুয়া খেলে এই চিপস আবার ফিলিপিনো মূদ্রায় কনভার্ট করা হয়েছে। এরপর সেই অর্থ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে হংকং এর বিভিন্ন একাউন্টে।

এই ঘটনা এত দেরিতে জানা গেল কেন সেটি এক বিরাট রহস্য।

এত বিরাট একটা কেলেংকারি, এত বিশাল অংকের অর্থ চুরি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে, অথচ তা জানা গেছে মাত্র গত কদিন আগে। এবং তাও ফিলিপাইনের বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিয়ে খবর বেরুনোর পর। এসবই ঘটেছে পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নজরে আসার আগে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ফিলিপাইনের পত্রিকার তথ্যে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ফিলিপাইনে গিয়ে সেখানকার সেন্ট্রাল ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের বেশ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও এ দুই ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। তবে সুইফটের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত