শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নারীকে নারীরাই করল অমানুষিক নির্যাতন



9নিউজ ডেস্ক :: চুয়াডাঙ্গায় ছাগল চুরির অভিযোগে আয়েশা খাতুন নামে এক নারীকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। রোববার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন জোছার মোড়ে ওই মহিলার ওপর নির্যাতন চালানো হলে সোমবার এলাকা ছেড়েছেন তিনি।
প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে নানাভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হলে সদর থানা পুলিশকে বারবার খবর দেওয়ার পরও ঘটনাস্থলে আসেনি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শহরের শান্তিপাড়ার মহিদুলের ১টা ছাগল চুরি হয়। ছাগল খোঁজের এক পর্যায়ে শহরের ফার্মপাড়ার আয়েশা খাতুন নামে ওই মহিলাকে চুরি হওয়া ছাগলসহ আটক করা হয়।
এরপর ওই নারীকে ছাগলের মালিক ও স্থানীয় উৎসাহী কিছু মানুষ অমানুষিক নির্যাতন করে। কখনও কিল-ঘুষি, আবার কখনও দলেচটকে নির্মমভাবে ঘন্টাখানেক নির্যাতন করতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, নির্যাতনের দৃশ্য দেখে এলাকার সচেতন লোকজন একাধিকবার সদর থানার ওসিকে ফোন দিলেও তেমন আমলে নেয়নি তিনি। প্রায় ঘন্টাখানেক নির্যাতনের পর শেষমেশ কিছু সচেতন মানুষের সহযোগিতায় ওই নারী ছাড়া পেয়ে নিরাপদে চলে যান
ঘটনার পর থেকে নির্যাতিত ওই নারী এলাকা ছেড়েছে। সোমবার দিনভর ওই নারীকে একাধিক স্থানে খোজা খুজি করেও পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্কুল শিক্ষক বলেন, পুলিশ না কি জনগনের রক্ষক। ওই নির্যাতিত নারীরও অধিকার আছে পুলিশের সেবা পাবার। কিন্তু পুলিশ সেটি করেনি।
মানবাধিকার কর্মি সাংবাদিক মরিয়ম শেলী জানান, প্রকাশ্যে একজন নারীকে রাস্তার উপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা অন্ধকার যুগকেও হার মানিয়েছে। ওই নারী যদি অপরাধ করে থাকে তার জন্য আইন আছে, বিচার আছে। কিন্তু তা না করে অতি উৎসাহী লোকজন যেভাবে তাকে নির্যাতন করেছে তা মানবাধিকারের চরম লংঘন। আর এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনে অফিসার পাঠানোর পর ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে আবার পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত