সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

একটাই কথা— পদ চাই, পদ চাই



27নিউজ ডেস্ক : ‘পদের জন্য তদবির করতে নেতাকর্মীরা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বাসায় বাসায় ও পার্টি অফিসে ধরণা দিচ্ছে। সবাই মায়া হরিণের পেছনে ছুটছে। একটিই কথা— পদ চাই, পদ চাই।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ‘ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির নেতারা এ কথা বলেন। দলটির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আসন্ন কাউন্সিলে পদের জন্য তদবির করতে অনেক নেতাকর্মী বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বাসায় বাসায় কিংবা পার্টি অফিসে রিজভী ভাইয়ের পাশে পাশে থাকেন। এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

পদের জন্য নেতাকর্মীদের তদবিরের বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা মায়া হরিণের পেছনে ছুটছি। সবার একটিই কথা— পদ চাই, পদ চাই।’

আলাল বলেন, ‘বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন কাউন্সিলে দলের নীতি-আদর্শ থেকে শুরু করে নেতৃত্ব নতুন করে সাজাবেন। সুতরাং পদের জন্য আমরা দৌঁড়াদৌঁড়ি ও তদবির করবো না— এ প্রতিজ্ঞা আমাদের করতে হবে। প্রত্যেকের কর্মকাণ্ড নেত্রীর (খালেদা জিয়া) নজরে ও বিশ্লেষণের মধ্যে আছে। নিচের লেভেলের নেতাদের কর্মকাণ্ডও আমাদের নজরে আছে। এগুলোকে একত্রিত করে একটি নতুন রূপ দিতে পারলে আমাদের কাউন্সিলের সফলতা আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপিতে অনেক চাটুকার ও বেঈমান রয়েছে। এরা অতীতেও দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, দলকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে, দলের ক্ষতি করেছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সোচ্চার থাকতে হবে, কৌশলী হতে হবে।’

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তথা জিয়া পরিবার যদি বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে রাজনীতি করতে পারে তাহলে শেখ হাসিনা কিংবা অন্য কারোর এমন কোনো শক্তি নেই যে, বিএনপির ক্ষতি করবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি হাজির হননি। এ ব্যাপারে আয়োজকরা জানান, কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি আসতে পারেননি।

‘ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ’র সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাদশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ডাবলু, বাংলাদেশ ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, যুবদল যুগ্ম-সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত