শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে



16নিউজ ডেস্ক : চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যেতে দলীয় নেতা-কর্মী ও গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেয়া স্বাগত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জাতির এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির সমন্বয়ে ইস্পাত কঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি হিংসা, বিদ্বেষ, অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাযক্রমে বিশ্বাস করে না। অথচ, আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকারের আমলে দ্বিমত পোষণকারী ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমান্বয়ে সঙ্কুচিত হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ এখন প্রায় তিরোহিত।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধার দল। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার বাস্তবায়নে ব্নিপি অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ, অনেক বেশি উদার রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী দল। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমেই বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকারকে পরাজিত করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার আজ চরমভাবে লংঘিত। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম খুন এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।বিনা বিচারে দীর্ঘকাল আটক রাখা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাসহ অন্য লোমহর্ষক ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থাকে নিঃশ্বেষ করে দিচ্ছে। নারী নিযাতন, শিশু হত্যা বাংলাদেশে এখন উদ্বেগের বিষয়। নিরপেক্ষ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর সরকারি চাপ প্রচণ্ডভাবে বেড়েছে।’

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে সরকারের নজিরবিহীন দমননীতির কারণে আমাদের দলের প্রায় ৫০২ জন শহীদ হয়েছেন, হয় পুলিশের গুলিতে অথবা সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের হাতে। অপহৃত হয়েছেন প্রায় ২২৩ জন। গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার জন। বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছেন প্রায় ৭৫ হাজার জন।মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার এবং আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার জনকে। প্রকাশ্য গুলি করে ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হয়েছে, হাজার হাজার অজ্ঞাত নামা আসামী দিয়ে জুলুম চালিয়েছে নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর। রাজপথে শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরাসরি গুলি চালিয়েছে। অতি সম্প্রতি মিথ্যা মামলায় প্রায় ৫০জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে। সরকার সারা দেশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশার সদস্যদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ গুমের শিকার এবং বিএনপি ও ২০ দলের নেতা-কর্মিদের স্মরণ করেন তিনি, যারা জেল-জুলুম, হুলিয়া ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার মুখেও দৃঢ়চিত্তে জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে রেখেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জোটের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, ড. কর্নেল অলি আহমেদ, সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, মাওলানা আব্দুল হালিম, শফিউল আলম প্রধান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস, খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জেবেল রহমান গনী, মহিউদ্দিন ইকরাম, হামদুল্লাহ আল মেহেদী, মোস্তফা জামাল হায়দার, গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত