শুক্রবার, ৮ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ দেশজুড়ে, খুনি গ্রেপ্তার হয়নি



5নিউজ ডেস্ক : রোববার রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে তনুর (১৯) ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ আলামত দেখে বলেছিল, এই তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

অলিপুর কালো পানির ট্যাঙ্কির রাস্তায় তনুর ব্যবহৃত জুতা, ছেঁড়া চুল, ছেঁড়া ওড়না পাওয়া গিয়েছিল। রাস্তার পাশে ঝোঁপের মধ্যে তার মাথা থেঁতলানো লাশ পাওয়া যায়।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়। এরপর তাকে গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে দাফন করা হয়।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তনু কলেজ থিয়েটারের সদস্য ছিলেন। অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

এদিকে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ভেতরে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চললেও খুনি কেউ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ‘তদন্তের স্বার্থে’ কিছু জানাচ্ছে না পুলিশ। বুধবার কুমিল্লার পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নানা সংগঠন যেমন কর্মসূচি পালন করেছে; তেমনি ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়।

তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে তিন দিন গড়িয়ে গেলেও কোনো খুনি শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তারের খবর পুলিশ জানাতে পারেনি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখন অনেক কিছু বলা যাচ্ছে না।”

তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

তনুর সতীর্থ মাইনুল হক স্বপন জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার বন্ধু টিউশনি করতেন। ছাত্রের বাসা থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বেরিয়েছিলেন তনু।

তনু হত্যাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি করে কুমিল্লায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বুধবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর টায়ারে আগুন দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

খুনিদের ধরতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি শেষ করে তারা। ঢাকার শাহবাগে বিকালে গণজাগরণ মঞ্চ মিছিল-সমাবেশ করে তনু হত্যার বিচার দাবি করেছে। মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় তনু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ফেইসবুক, টুইটার ও ব্লগসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের নানা ওয়েবসাইটে চলছে তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা।

খুনিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ‘নির্লিপ্ততার’ সমালোচনার পাশাপাশি সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এভাবে হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নও ‍তুলেছেন কেউ কেউ।

তনু হত্যার বিচার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাকার্ডও ঘুরছে। তনুর মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলা তার বাবার একটি কথাও রয়েছে কার্ডে।

“তুমি কান্দ কেরে? তুমি কি দেখছ? আমি এই হাত দুইডা দিয়া আমার তাজা মাইয়াডার লাশ ধরছি। আমার তিগা তোমার বেশি কষ্ট?”

সাবিহা সোভা মোহনা তার ওয়ালে তনুর ছবি শেয়ার কলে লিখেছেন, “অভিশাপ দিচ্ছি- এই দেশ যেন রাজকন্যা শূন্য হয়ে যায়।”

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত