বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজপথে তনুর ৩০ হাজার সহপাঠী, একাত্ম পুলিশও



43নিউজ ডেস্ক : সোহাগী জাহান তনুর খুনিদের বিচার দাবিতে আজও উত্তাল কুমিল্লার রাজপথ। মাঠে নেমেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। যাদের সঙ্গেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সময় কেটেছে তনুর। সেই সঙ্গে এই প্রতিবাদে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাট্যসংঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল- ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার, ঐতিহ্য কুমিল্লা, লাইট হাউস থিয়েটার, তিতাস ফ্রেন্ডস ক্লাব এবং কুমল্লিাস্থ নবীনগর ছাত্র কল্যাণ পরষিদের সদস্যরা।

তনু হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরের রাজপথে নেমে আসে সর্বস্তরের মানুষ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে তারা।

এ সময় নগরীতে কিছু সময়ের জন্য যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের সাথে যোগ দেয় কুমিল্লা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানান, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ওমর ফারুক, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদুল হক স্বপন, দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল আজিজ সিহানু, ছাত্রলীগ নেতা রোকন উদ্দিন ও শাওন প্রমুখ।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ওমর ফারুক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তনু হত্যাকারীদের বিচার দাবি করে বলেন, ‘সেনাবাহিনীদের এলাকার নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে তনুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

লাইট হাউস থিয়েটারের সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘এমন হত্যাকাণ্ড কখনো মেনে নেয়ার নয়। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, আজ যদি আমার বোন কিংবা আমার মেয়ে এমনভাবে হত্যার শিকার হতো তাহলে আমার নিজের কাছে কেমন লাগতো?’

ঐতিহ্য কুমিল্লার সমন্বয়ক মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা কুমিল্লার ঐতিহ্যকে সবসময় ধারণ করতে চাই। আমাদের কুমিল্লার ঐতিহ্যে কোনো হানাহানি নেই। ঐতিহ্য কুমিল্লা এ ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কুমিল্লাস্থ নবীনগর ছাত্রকল্যাণ পরষিদের সভাপতি রোজিনা আক্তার রুমি বলেন, ‘আশা করি প্রশাসন তনু হত্যাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করবে, তা না হলে আমারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।’

আরেক শিক্ষার্থী জানান, তনু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে কুমিল্লাসহ দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের জোয়ার উঠবে। ইতিমধ্যে সমগ্র দেশবাসী হত্যাকরীদের বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামাল কল্লোল এবং পুলিশ সুপারের কাছে স্মরকলিপি প্রদান করে।

ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সাবেক সভাপতি আল-আমিন বলেন, ‘সোহাগী আমাদের সংগঠনের সদস্য ছিল। তার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
তনুর সহপাঠীরা বলেন, ‘প্রশাসন যদি তনু হত্যাকারীরে গ্রেপ্তার না করে নিরব ভূমিকা পালন করে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ভিক্টোরিয়া কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, রেল লাইনসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, ডিসি অফিস অবরোধ, থানা অবরোধ, শিক্ষকদের কর্মবিরতীসহ প্রয়োজন হলে আমরণ অনশন করার সিদ্ধান্ত নেবো।’

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এতোদিন অতিক্রম হলেও প্রশাসন নিরব ভূমিক পালন করছে। তনু হত্যাকারীদের ফঁসিতে না ঝুলিয়ে রাজপথ থেকে কেউ আমাদের সরাতে পারবে না।

সন্ধ্যায় নগরীর কান্দিরপাড়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হবে।

নিহতের পরিবারের সূত্র জানায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য, নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু গত রোববার সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফিরছিল। পথে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তাকে।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে সোহাগীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। কালভার্টের পাশে ঝোপের ভেতর মাথা থেতলানো সোহাগীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ পড়েছিল।

সোমবার নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও কাউকে গ্রেপ্তার বা হত্যার রহস্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

কান্দিরপাড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সহ-পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আবদুর রব। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার আশ্বাস দেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত