রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তনুর মৃতদেহের স্থানে মিলেছে কীটনাশক!



1নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা সেনানিবাসে কলেজ শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে চেতনাশক ওষুধ ও কীটনাশক পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব মাটি ও ঘাস সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এতে তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে যে তনুকে হত্যার আগে তার ওপর চেতনাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি তার মুখ থেকে যে লালা নিঃসৃত হয়েছে, সেখানে কীটনাশকের অস্তিত্ব মিলেছে। র‌্যাবের ফরেনসিক ল্যাবে করা পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সদর দফতরের কাছে জমা দেয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত আলামতগুলোকে দুটি নমুনা হিসাবে ধরা হয়েছে। এদের প্রথম নমুনায় পেট্রোলিয়ামের উপাদান রয়েছে। পেট্রোলিয়ামের মধ্যে হেপ্টাকোসিন, অক্টাডিকোন, ডকোসেন ও পেন্টাকোসিন উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে।

এই পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের উপস্থিতি ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ মনে করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় নমুনাটি পরীক্ষা করে তাতে সাইক্লোবারবিটাল পাওয়া গেছে। সাইক্লোবারবিটাল হচ্ছে চেতনাশক ওষুধ। এটি অপারেশন থিয়েটারে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাশিয়ায় বিষণ্নতাভোগী রোগীদের ওপর চিকিত্সার জন্য সাইক্লোবারবিটাল প্রয়োগ করা হয়। সাইক্লোবারবিটালের সঙ্গে প্রোপাইলিন গ্লাইকল মনোলিট নামে একটি কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। প্রোপাইলিন গ্লাইকল মনোলিট কীটনাশকটি স্বাদে মিষ্টি। এটি সাধারণত ইঁদুর ও তেলাপোকা নিধনে প্রয়োগ করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তনুর লাশের স্থান থেকে জব্দ করা আলামতগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা রিপোর্ট তদন্তের একটি নতুন নিশানা দিয়েছে। ঘাতকরা তনুকে হত্যার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা নিয়েছিল। তাকে হত্যা করতে ঐসব রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগের পর ব্যর্থ হওয়ার পর হয়তো তার মাথা থেঁতলিয়ে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা ধারণা করছেন, হয়তো তনুকে অন্য কোনো স্থানে তার ওপর চেতনানাশক ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এমনও হতে পারে যে লাশ উদ্ধারের স্থানের খুব সন্নিকটের একটি জায়গায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ঘাতকরা লাশ সেখানে ফেলে দেয়।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, তনুর লাশের সঙ্গে উদ্ধার করা ওড়না ছিল ভেজা। তনুর পিতা ইয়ার হোসেনও অভিযোগ করেছিলেন যে ওড়নাটি ভেজা ছিল। তবে ওড়নার ভেজা স্থানে কোনো রক্তের আলামত ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, তনুর ওপর চেতনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে ওড়না ব্যবহার করা হয়েছিল।

এদিকে তনুর স্বজনরা গতকালও অভিযোগ করে বলেছেন, ঘটনার দিন ২০ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকেই ঘাতকরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। এমনকি লাশ উদ্ধারের সময়ও ঐ ঘাতকরা আশেপাশেই অবস্থান করছিল। কারণ তনু ২ বছর বয়স থেকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বেড়ে ওঠে। তাকে ঐ এলাকার সকলেই ভালোভাবে চেনে। সুতরাং অপরিচিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে হঠাত্ করে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ করে একজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে তাদের অনুরোধ ঘাতকরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদেরকে গ্রেফতার করতে না পারলে ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এজন্য যেভাবেই হোক ঘাতকদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।–ইত্তেফাক।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত