বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নৌকায় ভোট না দেয়ায় হত্যা, এখনো বিপ্লবের বাড়িতে আহাজারি



15নিউজ ডেস্ক : লালপুরের আড়বাব ইউনিয়নে রঘুনাথপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত বিপ্লবের বাড়িতে চলছে এখনও আহাজারি।

শুধুমাত্র নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিপ্লবকে এমনটাই অভিযোগ বিপ্লবের পরিবারের। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি পারিবারিক কোন্দলের জের।

শুক্রবার দুপুরের দিকে রঘুনাথপুরে বিপ্লবের লাশ বাড়িতে আনা হলে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আরো বেড়ে যায়। বিপ্লব লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের সাজেদুর রহমানের ছেলে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিপ্লকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত বিপ্লবের ৭ বছরের মেয়ে মুনমুন জানায়, তার সামনেই তার বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। তাদের গ্রামের শাহজাহান, সাইফুল, মুনছুর, ছানা ও ফটিকসহ ১০/১২ জন তার বাবা, চাচা ও ফুফুর ওপর হামলা চালায়।

হামলায় আহত বিপ্লবের বোন শারমিন আক্তার মিতা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল। তারা রাজি না হওয়া তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভোট দেয়ার জন্য সে ও তার ভাই ভুলু, রেজানূর ও বিপ্লব বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ১০ গজ যেতেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলায় চালায়। এতে তারা ৪ জন আহত হন। বিপ্লবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ১১টায় তিনি মারা যান।

আড়বাব ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী জানান, এটি নির্বাচনী সহিংসতা না। বিপ্লব ও সাইফুলের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রচলিত আইনে তিনিও এ হত্যার বিচার চান।

এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, এ ঘটনায় বিপ্লবের পরিবার শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত থানায় মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনের সময় গত বৃহস্পতিবার নাটোরের লালপুরে আরবাব ইউনিয়নের হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরকার দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৪ জন আহত হন। গুরুতর আহত বিপ্লবকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে বিকেলে বেসরকারি হাসপাতাল সিডিএম এর আইসিইউতে নেয়া হয়। রাত ১০টার পর তাকে আবারও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত