বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে ইয়াজিদি নারীরা



45আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব এবার নিজেদের হাতেই তুলে নিলেন ইয়াজিদি নারীরা। একটি সমাজ এবং তার সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দেওয়ার সব থেকে সহজ পন্থা হল, সেই সমাজের মেয়েদের বেআব্রু করে দেওয়া… এই প্ল্যানেই এতদিন চলেছে আইএসঅাইএস। তাদের এই প্ল্যানের বলি হয়েছে অগুনতি ইয়াজিদি মহিলা। তাদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন কৃতদাস করে রাখছিল আইএসঅাইএস। নিত্যদিন তাদের উপর চলছিল জঙ্গিদের নৃশংস অত্যাচার।

আতঙ্কের আঁতুড়ঘরে দিন কাটাতে কাটাতে অবশেষে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তুরস্ক এবং সিরিয়ার ইয়াজিদি মহিলারা। বন্দুক হাতে তারা বেরিয়েছেন পথে… চলছে কড়া নজরদারি। তাদের এই নতুন ভূমিকার জন্যে তৈরি করতে এগিয়ে এসেছিল কুরদিশ সিভিল ডিফেন্স মিলিশিয়ার YBS। সেই দলেরই দুই সদস্য হাভিন এবং ডেনিস জানালেন তাদের অভিজ্ঞতা।

২২ বছরের হাভিন জানান মহিলাদের তৈরি এই দলটির বেস শিঞ্জর পাহাড়ের কাছে কানানশোর গ্রামে। বহুদিন ধরে তিনি লড়াই করছেন। একটা সময়ে ফ্রন্টলাইনেও ছিলেন। সেখানেই ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বিস্ফোরণে আহত হন তিনি। ৩০ বছরের যোদ্ধা ডেনিস জানান, ২০১৪ সালের অগস্ট মাসে আইসিসের আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় শিঞ্জর।

উত্তর-পশ্চিম ইরাকের এই অঞ্চল দখল করে নেয় আইসিস। সেই থেকেই অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে তারা মহিলাদের উপরে। তার পরেই এই প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন এরা। সিরিয়ার কুরদিশ ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির প্যারামিলিটারি বাহিনী পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটের অংশ YBS।

ডেনিস জানিয়েছেন, ইয়াজিদি মহিলাদের আত্মরক্ষার পন্থা শেখান তারা। নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্যে তাদের লড়াইয়ের ট্রেনিং দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে নিজেদের সুরক্ষার জন্যে কারও মুখাপেক্ষী না হতে হয়। মেয়েদের থাকার জায়গা থেকে দেখা যায় ইয়াজিদি গ্রামের ঢোকার রাস্তা, যাতে সর্বক্ষণ নজর রাখা যায়। কিন্তু ঠিক কতটা ভয় পাচ্ছে ISIS তাদের?

এর উত্তরে ডেনিস হাসিতে ফেটে পড়ে জানান, ‘আইসিস আমাদের খুব ভয় পায়। আসলে আমাদের হাতে মৃত্যু হলে তো ওদের আর স্বর্গে যাওয়া হবে না। ওদের আসতে দেখলেই আমরা উচ্চস্বরে হাসি, জোরে জোরে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাই ওদের দিকে। হাতে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র। আর তাতেই ভীতুর মতো পিছু হটে ওরা। আমি নিজে হাতে আইসিস-এর কতজনকে যে মেরেছি, তার গুনতি নেই। তবে যতদিন না ওদের সবাই মরবে, ততদিন শান্তি পাব না।’

ইয়াজিদি মহিলাদের রক্ষা করার ব্রতে ব্রতী আরও এক তরুণী। ডাক্তারি পড়ায় ইতি টেনে এই দলে যোগ দেন ১৮ বছরের রোজালিনও। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অনেক হিংসা ও নৃশংসতা দেখেছি। আর তেমনটা হতে দেব না। পশুগুলোর হাত থেকে ইয়াজিদি মহিলাদের বাঁচাতেই হবে। আমরা যখন যুদ্ধে যাই, তখন আমাদের জন্যে তারা গান ধরেন।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত