বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রলম্বিত হতে পারে বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিন



18নিউজ ডেস্ক : এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ (৩৬-৪০ ডিগ্রি সিলসিয়াস তাপমাত্রা) বয়ে যাচ্ছে। ভাবা হয়েছিল পয়লা বৈশাখে অন্তত বৃষ্টি হবে, কিন্তু বৈশাখের এক সপ্তাহ চলে গেলেও বৃষ্টির দেখা নেই।

বৃষ্টিহীন বৈশাখী দিন প্রলম্বিত হলেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে খরার শঙ্কা করছেন না তারা। পুবালি ও পশ্চিমা লঘুচাপের সংমিশ্রণের বিলম্বে এবার দেরিতে হলেও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে। যদিও এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে টানা গরমের দুর্ভোগ আরও কয়েকদিন থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালেও মার্চ-এপ্রিলের এমন সময়ে ১৫-২০ দিন বৃষ্টি না হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বৃষ্টিহীন থাকলে তাপমাত্রা বাড়ায় আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত গরম থাকে। “এবার গত বছরের চেয়ে গরম একটু বেশি। আগামী দু’তিন দিনও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। পুবালি ও পশ্চিমা লঘুচাপের সংমিশ্রণ না থাকায় বৃষ্টি নেই সবখানে।”

বুধবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় ঢাকায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এ বছর ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৬০ সালের পর যা ছিল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আবহাওয়াবিদ সুজিত কুমার দেবশর্মা বলেন, পুবালি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পূর্ব উপকূল হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত থাকতে হয়; পশ্চিমা লঘুচাপ পাকিস্তান-উত্তর ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসবে-তবেই বৃষ্টি হবে। এবার তার অনুপস্থিতি রয়েছে।

মার্চ-এপ্রিলের এমন গরম আবহাওয়া অস্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে সুজিত দেবশর্মা বলেন, “খরা হওয়ার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই। বঙ্গোপসাগর ও এরাবিয়ান সাগরে একটা অবস্ট্রাকশন থাকার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘসময় বৃষ্টিহীন রয়েছে। চার-পাঁচ সপ্তাহও বৃষ্টিহীন থাকার নজির রয়েছে।”

গত শতকের ৬০ এর দশকে, ১৯৮৫-৮৬ সালেও এই ধরনের আবহাওয়া দেখা গিয়েছিল বলে জানান তিনি। এল নিনোর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলেই মনে করেন এই আবহাওয়াবিদ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত