শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অন্যের জমিতে খুপড়িঘরে থাকতে হবে না আর



2016_02_27_19_22_55_Vy51MhbdheCYfXow7IfkEzprRFdZLG_originalনিউজ ডেস্ক :: আবুল বাজনদারের নিজের জায়গা-জমি নেই, এমনকি বসতভিটাও নেই তার। এতদিন বাসস্ট্যান্ডের পাশে অন্যের জমিতে খুপড়িঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। এর মধ্যে আবার বিরল রোগে ধরেছে তাকে। তাতে অবশ্য আবুলের কপালও খুলেছে- এটা বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না! অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটা হচ্ছে তার।

দানের টাকায় জায়গা কিনেছেন। সেখানে বাড়ি করার স্বপ্ন দেখছেন আবুল। এখন শুধু হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাওয়ার অপেক্ষা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কবির চৌধুরী জমি কেনার জন্য আবুলকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে খুলনার পাইকগাছায় বাসস্ট্যান্ডের পাশে তার নামে সাড়ে তিন শতক জমি কেনা হয়েছে। গত ৩১ মে আবুলের বড় ভাই মো. আইয়ুব বাজনদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান আবুল বাজনদার।

ট্রি-ম্যান নামে বিশ্বব্যাপি পরিচিতি পাওয়া আবুল বলেন, শুধু জমি কিনতে নয়, বাড়ি নির্মাণের জন্যও ডা. কবির চৌধুরী টাকা দিবেন বলেছেন। অপেক্ষায় আছি, সুস্থ হয়ে উঠলে বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করবো।

চিকিৎসার স্বার্থে মা-বাবা, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে এবার হাসপাতালে ঈদ করতে হবে আবুলকে। এতে কোনো আক্ষেপ নেই তার। ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছে, এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে জানান আবুল বাজনদার।

এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস নামক একটি বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদার। তার হাতে ও পায়ে শিকড়ের মতো মাংসপিণ্ড গজিয়েছিল। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তার ডান হাতের মাংসপিণ্ড অপসারণ করতে প্রথম অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। এ পর্যন্ত দুই হাত ও পায়ে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার আরো প্রায় এক বছর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরো দুই থেকে তিন বছর লাগতে পারে। আবুলের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করছে সরকার।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত