শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অনুমোদন পেল জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা



Telecom-Actতথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক :: সেবার মান উন্নত করতে ও গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের মধ্যে সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১০ বছর মেয়াদী জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার ১১৩তম বৈঠকে এ নীতিমালার খসড়ায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এটি ১৯৯৮ সালের টেলিযোগাযোগ নীতিমালাকে প্রতিস্থাপন করবে।

টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ১৯৯৮, জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০১৫, জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০০৯ এবং আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ সেবা নীতিমালা ২০১০ কে সমন্বিত করে এই নীতিমালা করা হয়েছে। শফিউল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং নতুন বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্য সামনে রেখে ১০ বছরের জন্য এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রায় ২০১৮ সালের মধ্যে টেলিঘনত্ব (নাগরিকদের হাতে টেলিফোনের অনুপাত) ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটের বিস্তার ৩৪ থেকে ৪৫ শতাংশে, মোবাইল বা ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে, সব জেলা-উপজেলা সদর এবং দুই হাজার ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ বিস্তৃত করা, সব উপজেলা সদরে উচ্চ গতির তারহীন ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশে জিডিটাল সম্প্রচার চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রায় ছয়টি ‘টার্গেট’ ঠিক করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

বর্তমানে চলমান জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালার ভিত্তিতে ২০০১ সালে সরকার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরি করে। তবে এ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ আইনে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেট, মোবাইল, টেলিফোন, ব্রডব্যান্ডসহ সেবার ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হলেও নীতিমালা ও আইনি সংস্কার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

নতুন নীতিমালায় বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সুদূরপ্রসারী প্রত্যাশাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষের বাসস্থান থেকে শুরু করে ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। একই সঙ্গে সেবার গুণগতমান নিশ্চিত করা এবং দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে ৫টি মূলনীতি দ্বারা এই নীতিমালা পরিচালিত হবে। এগুলো হচ্ছেÑ প্রতিযোগিতামূলক বাজার, সর্বজনীন প্রবেশাধিকার, কার্যকর শাসন ব্যবস্থাপনা, সুসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ ও প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে সরকার প্রথম টেলিযোগাযোগ নীতিমালা তৈরি করে। তখন অনেক পর্যালোচনার মাধ্যমে শ্রীলংকান এক পরামর্শক নীতিমালাটির কাজ সম্পন্ন করেন। পরে ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ আইন করা হয়। ২০১০ সালে এ আইন পরিবর্তনের সময় টেলিযোগাযোগ নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য অনেক বিষয় সেখানে যুক্ত করা হয়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত