মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লক্কর-ঝক্কর ট্রেন সিলেটের পর্যটনের অন্তরায়



7নিউজ ডেস্ক : ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সংস্কারবিহীন রেললাইন আর পুরাতন লক্কর-ঝক্কর মার্কা ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা-সিলেট রুট।রেললাইন সংস্কারের অভাব আর বগি পুরাতন হওয়ায় ট্রেনের গতি অনেক কম। কোনো কোনোস্থানে তা ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারে এসে ঠেকে!

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব ৩৩৫ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগে ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। অথচ ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব মাত্র ২৬৫ কিলোমিটার, কিন্তু সময় লাগে ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। কোনো কোনো সময় ৯ ঘণ্টাও লেগে যায়।

ঢাকা থেকে সিলেট মাত্র ২৬৫ কিলোমিটার যেতে রেকর্ড ১১টি স্টেশনে থামে পারাবত এক্সপ্রেস। ট্রেনের এক কর্মকর্তা জানালেন, এ রুটে চলাচলকারী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস আরও বেশি স্টেশন ধরে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) পারাবত এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে-আসতে ওই স্টেশন ছাড়াও আর চারটি স্থানে থামতে হয়েছে। ঢাকা এয়ারপোর্ট স্টেশনের আগে একবার, টঙ্গী স্টেশনের আগে পূর্ব-আরিচপুরে একবার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের আগে আরও একবার এবং আজমপুর স্টেশনের আগে ব্রিজের উপর একবার।

একটি ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তারেক মাহমুদ আলাপকালে বলেন, বিমানে খরচ বেশি, বাসে কষ্ট বেশি, কম খরচে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অধিকাংশ মানুষ ট্রেন ভ্রমণকে বেছে নেন। কিন্তু ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন ভ্রমণের পর আনন্দটা বিষাদে পরিণত হয়। ঢাকা-সিলেট রুটটির উন্নয়ন হলে সিলেটে আরও বেশি পর্যটক আসবেন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী পারাবত ট্রেনের পরিচালক নিজাম উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, এ রুটের ট্রেন ও রেললাইন দুটাই পুরাতন। তাই ট্রেনে কাঙ্ক্ষিত গতি দেওয়া সম্ভব হয় না। সবকিছু বিবেচনা করেই সময় ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর স্টেশনের লাইন ক্লিয়ার না পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্টেশনের আগে ট্রেন থামাতে হয়। এছাড়া বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেনকে সাইড দিতে কোনো কোনো স্টেশনে অধিক সময় থামতে হয়। ফলে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়।

এ রুটে ডাবল রেললাইন, পুরাতন রেললাইন সংস্কার আর নতুন ট্রেন দেওয়া হলে সময় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত