শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

রংপুর সুগার মিলের অধিগ্রহণকৃত জমি চাষিদের ফেরত দেওয়ার দাবি



01936b0fe76b8e8a35d793cefcc3da64-57c6db32b461b

নিউজ ডেস্ক::রংপুর সুগার মিলসরংপুর সুগার মিলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি (সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর) এর প্রকৃত চাষিদের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদ’ নামে একটি নাগরিক সমাজ। ১৯৬২ সালে মিলের জন্য জমি অধিগ্রহণের ফলে দুই হাজার আদিবাসী- বাঙালি পরিবার, প্রান্তিক চাষি উচ্ছেদ হয়েছেন। সেই জমি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বুধবার ‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদ’-এর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন সংবাদমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিটিতে এ জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, শামসুল হুদা, নূমান আহম্মদ খান, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, রোবায়েত ফেরদৌস, সঞ্জীব দ্রং, রবীন্দ্রনাথ সরেন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, দীপায়ন খীসা, জাকির হোসেন ও গবেষক পাভেল পার্থ।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫নং সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেংগাবাদ ও চকরহিমাপুর মৌজার ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর ভূমি ‘রংপুর (মহিমাগঞ্জ) সুগার মিলের’ জন্য অধিগ্রহণের নামে কেড়ে নেয় তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার। এলাকাটি সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম নামে পরিচিত। অধিগ্রহণের ফলে ১৫টি আদিবাসী গ্রাম ও ৫টি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ হয়। কথা ছিল অধিগ্রহণের নামে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া এই জমিতে আখচাষ হবে। আখ ভিন্ন অন্য কোনও ফসল চাষ করা হলে বা চিনিকলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনও কিছু করা হলে কেড়ে নেওয়া এসব জমি ভূমি মালিকদের ফের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

অধিগ্রহণের পর বেশকিছু জমিতে আখ চাষ হয় এবং আখ ব্যবহার করে চিনিও উৎপাদিত হয়। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মিলটি একবার চালু হয়; আবার বন্ধ হয় এভাবেই চলতে থাকে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণকৃত জমি নানাভাবে বহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে।

অধিগ্রহণের চুক্তি লঙ্ঘন করে কেবল আখ চাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে ধান, গম, সরিষা ও আলু, তামাক ও হাইব্রিড ভুট্টা চাষ শুরু হয়। এ ঘটনার পর ভিটেমাটি থেকে উদ্বাস্তু আদিবাসী ও বাঙালিরা ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সনের ৩০ মার্চ গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকা সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে তারা উল্লিখিত জমিতে ধান, তামাক ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ দেখতে পান। কিন্তু গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন চলতি বছরের ১০ মে সরকার বরাবর এ ভূমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়। এরপর বাপ-দাদার জমিনে অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে ভূমিহীনরা আন্দোলন শুরু করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলন দমাতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ভূমিহীনদের সংগ্রামে হামলা-মামলার বাহাদুরি চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে প্রশাসন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন চারজন ও আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আন্দোলনকারী ৫১ জনের নামে চারটি বানোয়াট মামলা দিয়েছে। গাইবান্ধা জেলে এখনও আটক নিজভূমি প্রত্যাশী চারজন। ১৯৬২ থেকে ২০১৬ দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চিনি উৎপাদনের অজুহাতে রাষ্ট্র সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের ভূমি উদ্বাস্তু হাজার মানুষের সঙ্গে বর্ণবাদী অন্যায় করে চলেছে। ঘটনাটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধান, মানবিকতা ও আইন সবকিছুই লঙ্ঘন করে চলেছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে এ ভূমিতে বসবাসরত প্রায় দুই হাজার পরিবার আদিবাসী- বাঙালি প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিনিয়ত মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভূমিখেকোদের অব্যাহত হুমকি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের সহায়তায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ব্যক্তিত্বরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়-বিচার দাবি করছি। বসবাসরত দরিদ্র-প্রান্তিক আদিবাসী ও বাঙালিদের যেন কোনোভাবেই হেনস্থা না করা হয়, সে বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত