বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের সন্তানকে সরকারি স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক



full_894961398_1472710605নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের সন্তানদের এবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পড়াতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পঞ্চম অথবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের সন্তানরা এসব স্কুল পড়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করবে। এ আদেশ মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বহাল থাকবে।

৩০ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরতরা তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান না। পার্শ্ববর্তী কোনো কেজি স্কুল কিংবা অন্য কোনো বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করান। এমনও দেখা গেছে, মা-বাবা দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কিন্তু সন্তান কেজি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কী শুধু নিম্নবিত্তের স্কুল, এখানে ভালো পড়াশোনা হয় না দেখে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের কেজি স্কুলে পড়াবেন। শিক্ষকসহ প্রাথমিকের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা নিয়েও আছে প্রশ্ন। এসব সন্তান এখানে না থাকায় সরকারের শতভাগ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সন্তানদের প্রাথমিক স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানোর জন্য আদেশ জারি করলো।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আদেশ জারির পর মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এই আদেশ বাস্তবায়ন করবেন। এরপরেও যদি সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা না হয়, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওই কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তিসহ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত সব শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মহনগর এবং শহর এলাকা এমনকি জেলা-উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছেলেমেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া না করার কারণে জনগণের মনে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

এর ফলে অনেকেই বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান না করার কারণেই তারা এখানে ভর্তি হয় না। তাদের সন্তানরা এখানে লেখাপড়া না করার কারণে মানসম্মত পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের কাঙ্ক্মিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। এরকম পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরতদের সন্তানকে তাদের সুবিধামতো অথবা নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ শেষ করার জন্য শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত