বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গুলশান হামলার দুই মাস: আরও ৪-৫ জনকে খুঁজছে পুলিশ



full_1093664273_1472703939নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ গুলশান হামলার দুই মাস পূর্তি হলো আজ। গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে চালানো হয় সন্ত্রাসী হামলা।
ইতোমধ্যে ঘটনার মাস্টারমাইন্ড তমিম চৌধুরীসহ কয়েকজন পুলিশের অভিযানে নিহত হলেও এখনও ৪-৫ জনকে খুঁজছে পুলিশ।

মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, অর্থ সংকট দূর করতে গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িতরা ফেক ইন্ডিয়ান কারেন্সি ব্যবহার করতো। একটি বিদেশী এজেন্সিকে (গোয়েন্দা সংস্থা) দিয়ে ওই কারেন্সি ছাপানো হতো। তাছাড়া দেশে ব্যক্তি পর্যায়েও কেউ কেউ তাদের অর্থায়ন করেছে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষার এখনও ফল হাতে পায়নি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এফবিআইয়ের পরীক্ষাগারে থাকা ওই আলামত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্লু পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে অনেক ক্লু বেরিয়ে আসছে। গত দুই মাসের তদন্তে পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ কয়েকজন কমান্ডারের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরা আপাতত চুপ থাকলেও তারা যেকোনো সময় সক্রিয় হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গুলশানে হামলার আগেই গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল যে, বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হবে। তবে হামলাটি কোথায় হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য ছিল না।

কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান জানান, গুলশান হামলার পর জঙ্গিবিরোধী ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এখন আত্মরক্ষায় মরিয়া। এ কারণে গত দুই মাসে তারা কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলশানের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী নিহত হয়েছে।

তিনি জানান, গুলশান হামলার ঘটনায় নুরুল ইসলাম মারজানসহ অন্তত ৪-৫ জনের সন্ধান করা হচ্ছে। তাদের সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেছে। যেসব সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা হয়েছে তাদের সবার নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা ঠিক হবে না। এমনকি তাদের সাংগঠনিক নামও প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে এডিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত হাসনাত করিম ও তাহমিদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেয়া তথ্যে কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এই দুইজনকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নিহত হয়েছে। তবে তার কিছু সমর্থক এখনও রয়ে গেছে। তারা দুর্বল হলেও শেষ হয়ে যায়নি।

তিনি জানান, আত্মগোপনে থাকা কয়েক জঙ্গিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাদের কয়েকজনের চেহারার বর্ণনা পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই গ্রেফতার করা যাবে। তাদের ধরতে পর্যাপ্ত সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, গুলশান হামলার তদন্তের সূত্র ধরে অন্তত দেড় ডজন জঙ্গির খোঁজ পাওয়া গেছে। তারা মাঠ পর্যায়ের নেপথ্যে থেকে জঙ্গিদের নানা ধরনের সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, বসুন্ধরার নর্থ সাউথের এক শিক্ষকের বাসায় বসে হত্যাযজ্ঞের ছক একে করে তামিম চৌধুরী। এ ঘটনায় গ্রেফতার নর্থ সাউথের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকে দুদফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই গুলশানের ভয়াবহ জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন সাহসী দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ওই রাতের বিভীষিকা কেড়ে নেয় ১৭ বিদেশী নাগরিকসহ ২০ জনের তাজা প্রাণ। কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী ও এক সন্দেহভাজন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত