শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জোসনা রাতে হাতিরঝিলে দাবার কোর্টে ঝড়



chess-3-laa20160918224324নিউজ ডেস্ক::‘এইবার চাচায় ধরা খাইছে, বলেই সমস্বরে চিৎকার করে উঠলেন কয়েকজন তরুণ। ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের সাথে কলেজ পড়ুয়া এক তরুণের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর দাবা খেলা চলছিল। কলেজ পড়ুয়া তরুণের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ লক্ষ্য করা গেলেও বৃদ্ধ লোকটি নির্ভার হয়ে গুটি চালছিল। তরুণদের চিৎকারের জবাবে বৃদ্ধ বলে উঠলেন, আরে পাগলরা কয় কি, রাজা খাইয়া ফালামু, রাজা আগে সামলাও। বৃদ্ধের কথা শুনে হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে উপস্থিত সকলে। বেশ কিছুক্ষণ খেলার পর জয় পেলেন ওই বৃদ্ধ। একে একে তরুণরা বৃদ্ধকে গুরু আপনিই সেরা বলে আরেকবার চিৎকার করে হাত মেলালেন।’

রোববার রাত সাড়ে ৮টা। কারওয়ান বাজার থেকে হাতিরঝিলের প্রবেশ পথের অদূরে দক্ষিণ পাশের ওয়াকওয়েতে জোসনা রাতে এ দাবা খেলা চলছিল। শুধু এই একটি জুটিই নয়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে হাতিরঝিলের ওয়াকওয়ের পাশে নির্মিত দাবা কোর্টে একাধিক জুটি রোববার রাতে দাবা খেলছিল। ঝিলের পানির পাশে বসে দুজনের জন্য বসার বেঞ্চ ও খেলার জন্য কোর্ট তৈরি করে দেয়া রয়েছে। তবে দাবার গুটি নিজে থেকে নিয়ে আসতে হয়।

জানা গেছে, হাতিরঝিলের এ স্থানটি দাবারুদের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার অনেকেই এ স্থানে দাবা খেলতে ছুটে আসেন।

 

কিছুক্ষণ আগেই যে বৃদ্ধ দাবা খেলছিলেন তার নাম আবদুস সামাদ। সারাজীবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সুপারভাইজার পদে চাকরি করেছেন। বছর দশেক আগে চাকরি থেকে অবসরে যান। ছয় ছেলে দুই মেয়ের জনক এই বৃদ্ধ থাকেন নয়াটোলার পাগলা মাজারের পাশের একটি বাড়িতে।

আবদুস সামাদ জানান, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর দাবা খেলার প্রতি আগ্রহ জম্মে। অবসর সময় কাটাতে খেলা শুরু করেন। পরে তা এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়। এখন সপ্তাহে দুই তিন দিন হাতিরঝিলের এই দাবার কোর্টে ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, হাতিরঝিলে আসলে মনটা ভাল হয়ে যায়। হাটাহাটির পাশাপাশি দাবা খেলা বাড়তি মজা। যে ছেলেটির সাথে বৃদ্ধ খেলছিলেন তার নাম জুয়েল। হাতিরঝিলের অদূরে মগবাজারে তার বাসা। ঢাকা কলেজে পড়াশুনা করেন । এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সময় পেলেই দাবা খেলতে এখানে ছুটে আসেন।

 

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত