সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে



habiganj-pic-2হবিগঞ্জ সংবাদদাতা : হাওর ও পাহাড়ের জেলা হবিগঞ্জ। এখানকার প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়েই বিস্তৃত প্রাকৃতিক জলাশয়। সংগত কারণে দেশীয় নানা প্রজাতির মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ। ফলে জীবিকা নির্বাহে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন মাছ শিকারকে। জীবিকা নির্বাহে প্রাকৃতিক জলাশয়কে বেছে নেওয়ায় কমে যাচ্ছে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ।

অন্যদিকে, খাদ্যতালিকায় মাছের চাহিদা মেটাতে অনেকে আবার হয়ে উঠেছেন শৌখিন শিকারি। আর এসব কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের এসব মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ছে মৎস্য শিকারিদের হাতে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মৎস্য সম্পদ। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় চিন্তাভাবনা চলছে অভয়াশ্রম তৈরির। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের হাওর, বিল আর পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করতে তৃণমূলের ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ‘রাজস্ব খাতের আওতায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন-বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ সম্পন্ন করেছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাল-বিল, হাওর আর পাহাড়-টিলা সমৃদ্ধ হবিগঞ্জের জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর। আর এজন্যই তৃণমূলের ৬০ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা জেলার হাওর, বিল, নদী-নালা, পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরিতে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রশিক্ষণের পর হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচং, মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও বাহুবল উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে ৭১ জন মাঠকর্মী নিয়োগ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারা সরেজমিন গিয়ে প্রযুক্তিগত মাছ চাষে লোকজনকে আগ্রহী করে তুলছেন। এর সুফলও মিলছে। অনেকেই নতুন করে মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন আহম্মদ জানান, তৃণমূলের ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে, তবে জেলার হাওর, বিল, পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে উঠবে। সরকারিভাবে জেলার গভীর জলাশয়ে বেশ কয়েকটি মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। আমরা চাই পুরো জেলার স্থানে স্থানে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি হোক।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষে যেমন খরচ কম তেমনি মাছ বড়ও হয় দ্রুত। আর এসব মাছ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।

তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে যেমন অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে; তেমনি তারা আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়েছেন। আর এ জন্য মৎস অধিদপ্তর তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছচাষি ইমন খান জানান, কর্মশালায় অংশ নিয়ে মাছ চাষকে এগিয়ে নেওয়ার নতুন নতুন তথ্য জেনে ভালো লেগেছে। তা ছাড়া আগে বর্ষা মৌসুমে যে জায়গাগুলো কোনো কাজে লাগত না, সেখানে মাছের অভয়াশ্রম করে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি। আমরা প্রতিবছরই এখন এভাবে মাষ চাষ করব।

আরেক মাছচাষি বিপ্লব দাস জানান, আমরা তিনজন মিলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে একটি মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করেছি। এখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করছি। আর মাছগুলো খুব দ্রুত বেড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, আগে আমরা তিনজন বেকার ছিলাম, এখন মাছ চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছি।

প্রসঙ্গত, হবিগঞ্জ জেলায় জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ৯৭ হাজার ১৩৫. ১৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৫৪টি হাওর এলাকায় সরকারি বিলের সংখ্যা ৬৭৫ এবং বেসরকারি ৫৩৭। সেই সঙ্গে রয়েছে বরাক, খোয়াই, শুঁটকি, রত্না, সুতাং, ভেড়ামোহনা, বিজনা, কুশিয়ারা, সোনাই, করাঙ্গীসহ অন্যান্য নদ-নদী। এ ছাড়া ৭৪টি খালের পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুকুর, ডোবাসহ নানা জলাশয়।

এসব জলাশয়ে প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। জেলায় বছরে মাছের উৎপাদন হয় ২৮ হাজার ৪৭৪ টন। এখানে মাছের চাহিদা ২২ হাজার ৯০৯ টন। উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৫৬৫ টন মাছ। মিঠাপানিতে উৎপাদিত মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত