শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

স্বপ্নে আকাঁ প্রতিচ্ছবির মতই শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর



unnamed-94পড়ন্ত বিকেলে রক্তিম সূর্যের আলোয় লালচে আকাশ। রাখালিয়ারা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছে। জেলেরা তীরে নৌকা ভিড়াচ্ছে। একদল জেলে নৌকার বৈঠা কাঁধে এক প্রান্তে জাল অন্য প্রান্তে মাছের ঝুড়ি বেঁধে গাঁয়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। পাখির দল এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত ছুটে চলছে। যতদূর চোখ যায় শুধু সৌন্দর্যই দেখা যাবে। এমনই অপরূপ দৃশ্য আর কোথাও নয়, ধরা দেয় মৌলভীবাজরের চা শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে। যেন মনে হয় স্বপ্নের মত আকাঁ এক প্রতিচ্ছবি। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী এই হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র ও জীবন জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ন জলাভূমি। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন যথা-কালাপুর, শ্রীমঙ্গল, ভূনবীর ও মির্জাপুর নিয়ে বিস্তৃত এ হাওরের।
শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওর হয়ে উঠতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র। মৌলভীবাজার জেলাধীন সদর উপজেলা কিয়দংশ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বৃহদাংশ নিয়ে বিস্তৃত হাইল হাওর পাখি, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত ভান্ডার হিসেবে সুপরিচিত। এ হাওরকে এককালে বলা হত বৃহত্তর সিলেটের মৎস্য ভান্ডার। হাওরটি বর্ষায় ১৪ হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়ে এবং শুকনো মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টর জলাভূমিতে সংকুচিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জীববৈচিত্রপূর্ণ অঞ্চলগুলোর অন্যতম এ হাওরটি ৯৮ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল এবং ১৬০ প্রজাতির পাখির বিচরণক্ষেত্র। জীববৈচিত্র ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হাইল হাওরের বাইক্কা বিল এখন জলজ সম্পদের অমূল্য ভান্ডার। শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্ত বিনোদনের জন্য এই বিল এখন অনন্য একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানকার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শোভা দেখে পর্যটক ও প্রকৃতি পিপাসুরা বিমোহিত হয়ে যান। গত ৩/৪ বছর ধরে মানুষ প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য এখানে ছুটে আসছেন। পর্যটক কিংবা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরাবরই প্রিয় মৌলভীবাজার।
কিন্তু এখানে যে চমৎকার একটি হাওর আছে, এটা খুব কম পর্যটকই জানেন। অবশ্য সেখানে ভ্রমণে যাওয়ার পর জানতে পারেন। হাইল হাওরের আসল সৌন্দর্য হল এখানকার পাখি। বহুদিন ধরেই এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বারো মাসই হাইল হাওর মুখরিত থাকে পাখিদের কলতানে। আর শীতকালে অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে।
এ সময় স্থানীয় পাখির পাশাপাশি অসংখ্য প্রজাতির পাখি এসে ভিড় জমায় এখানে। বর্ষা মৌসুমে হাইল হাওরের সুনীল জলরাশি চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। শুধু পানি আর পানি। ভ্রমন পিপাষুদের জন্য নৌকা ভ্রমনের উৎকৃষ্ট স্থান হল এই হাইল হাওর। ভোরে ঘুমন্ত হাইল হাওর যেন জেগে উঠে। হাওরের চারপাশে হাজার হাজার মৎস্যজীবির মাছ আহনরনের দৃশ্য অত্যন্ত মোহনীয়। বিকেলের হাইল হাওর থাকে যেন পাখিদের দখলে। সন্ধ্যায় হাইল হাওরে ভ্রমন করলে মনে হবে সারা রাত কাটিয়ে দেই পাখিদের এ রাজ্যে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত