শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার সরকারি স্কুলের হোস্টেল দখল করে কোচিং বাণিজ্য



usus-ucc_12762নিউজ ডেস্ক::শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম না মেনে স্কুল হোস্টেলের ৩টি কক্ষ দখল করে নিজ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রকে ব্যাচ করে পড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ওই শিক্ষকরা হোস্টেলের পূর্বপাশের বিল্ডিংয়ের পশ্চিম মাথার ৩টি কক্ষে সকাল এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ছাত্রদের পড়ান। হোস্টেলটি এখন ছাত্রদের কাছে কোচিং সেন্টার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা অভিভাবকদেরও কোচিং ছুটির পূর্ব পর্যন্ত হোস্টেলের বারান্দা ও গেইটের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর ফলে হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিঘ্নিত হচ্ছে হোস্টেলের সুন্দর পরিবেশ। শিক্ষকদের ভয়ে হোস্টেলে থাকা ছাত্ররা মুখ খুলে কিছু বলতে পারছে না।
জানা যায়, সকাল ৭ টা থেকে শুরু হয় প্রথম ব্যাচ এবং বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে আরো ৩টি ব্যাচ। ব্যাচের শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলের। বাকি কয়েকজন অন্যান্য স্কুলের। ওই তিন শিক্ষকের সমন্বয়ে হোস্টেলটি এখন পোরাদমে কোচিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে। স্কুলে সময় দানের চেয়ে তারা কোচিংয়ে মনোযোগী বেশি।
হোস্টেলে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার আব্দুল মালিক নিজ কক্ষে সরকারি স্কুলের দিবা শাখার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান নিলয় ও শাহজালাল কেজি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন এবং পাশে একজন মহিলা অভিভাবক বসে আছেন। ওই প্রতিবেদক উপস্থিত থাকা অবস্থায় আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়তে আসে। পার্শ্ববর্তী কক্ষে গেলে দেখা যায়, কোচিং সেন্টারের আদলে কক্ষের চারদিকে ডেস্ক ও বেঞ্চ রাখা এবং মধ্যখানে শিক্ষকের জন্য চেয়ার-টেবিল রয়েছে। ওই কক্ষের দেয়ালে একটি বোর্ড ঝুলানো রয়েছে। ওই কক্ষটি ব্যাচ পড়ানোর প্রধান কক্ষ। এখানে এক সাথে ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী বসে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে শিক্ষক আব্দুল মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ছাত্র পড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্কুলের ১০/১২জন ছাত্রকে পড়াই। অন্যরা বাইরের স্কুলের।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত