রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মেয়ে বলল, স্যারেরা তো পারে না



2_83920কর্মস্থল থেকে মাঝেমধ্যে বাড়ি যাই। মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া করছে। পড়ালেখা অনেক বেশি। ক্লাসের আগে ও পরে প্রাইভেট পড়ে। ছয়টি বিষয়ে। পড়ালেখার ভারে মেয়ে আমার ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া করতে পারে না। আমি গেলে (শুক্রবার) আহ্লাদে ঐ দিন আর পড়ালেখা করতে চায় না। পড়তে বললে বলে, বাবা পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছি, আর পারি না। আমি বললাম, ছয়টি বিষয়ে প্রাইভেট পড়া লাগে? দু-একটি বিষয়ে যেমন উচ্চতর গণিত অথবা ইংরেজি পড়লেই তো হয়।
স্যার ক্লাসে যা পড়ান তা ভালোভাবে খেয়াল করলেই হয়। তার পরও যদি কোনো বিষয়ে খটকা লাগে, তাহলে ঐ বিষয়ে স্যারের কাছে ফোন করা যায়। মেয়ে বলল, স্যারেরা তো পারে না। আমি শুনে অবাক! স্যারেরা পারে না? একটা ভালো স্কুলের (উচ্চ বিদ্যালয়ের) এক শিক্ষককে (বন্ধুকে) জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার স্কুলে মেয়েকে পড়ানো যায় কি না। সব কথা শুনে এক গাল হেসে বলল, ঐ সব বিষয়ে এক্সপার্ট শিক্ষক ছাড়া পড়াতে পারবে না। উল্লেখ্য, আমার মেয়েকে পড়ান একজন কলেজ শিক্ষক। আমার প্রশ্ন, জাতীয় পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম) যারা তৈরি করেন তারা স্কুল ভিজিট করে দেখুন— কতজন শিক্ষক আপনাদের পাঠ্যক্রম ঠিকমতো পড়াতে পারেন।
এ কেমন শিক্ষানীতি? পড়ালেখা করতে করতে নাওয়া-খাওয়ার সময় পায় না ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষায় থাকতে হবে আনন্দ। শিক্ষায় থাকতে হবে ছাত্রছাত্রীর আগ্রহ। এ বিষয়ে এখন ভাবা উচিত। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অভিভাবকের চিঠি
সূত্র : দৈনিক শিক্ষা

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত