সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পথচারী-চালক উভয়কেই বেপরোয়া বললেন কাদের



নিউজ ডেস্ক: দেশের মহাসড়কগুলোতে ক্রমাগত দুর্ঘটনার জন্য গাড়ি চালক ও পথচারী উভয়কেই দুষলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের গাড়ির ড্রাইভার ও পথচারি উভয়ের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। গাড়ির ড্রাইভাররা যেমন বেপরোয়া, পথচারীরাও ঠিক তেমনিই বেপরোয়া।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাফল্য ও গৌরবের ২৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে নানা। সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের তৈরি। মানুষ সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।”
“আমরা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পেরেছি এটা দাবি করতে পারি, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করতে পেরেছি এটা দাবি করতে পারি না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে ইলিয়াস কাঞ্চনের মত নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে।”
উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, “দয়া করে সমালোচনা বন্ধ করবেন না। সম্পর্ক ভালো বলে সমালোচনা করবেন না এটা যেন না হয়। সমালোচনা করা বন্ধ হলে ভূত তাড়ানো সম্ভব হবে না। অার ভূত তাড়াতে না পারলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব না।”
দূরপাল্লার গাড়ির চালকদের গতি নিয়ন্ত্রনে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,“ সড়ক দুর্ঘটনা নিমূল করতে হলে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। কুয়াশার সময় দুর্ঘটনা বেশি হয়। তাই এই সময় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রন করা দরকার। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রন করতে গাড়ির মালিক ও ড্রাইভারদের সহযোগীতা প্রয়োজন। সর্বোচ্চ গতি সীম ৮০ থাকলেও এই কোয়াশায় যাতে এটা আরো কমে আসে।”

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান সৈয়দ এহসানুল হক কামালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- নিরাপদ সড়ক চাই অান্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন।
উন্নত পরিবহন সেবা দিতে প্রযুক্তি নির্ভর অ্যাপস উবার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আধুনিকতাকে আমাদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। এখানে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। উবার একটা সিস্টেমে আটকে আছে। আমি বিআরটিএকে বলেছি এটাকে ঘৃণা না করে, এটাকে প্রত্যাখ্যান না করে, এটাকে কিভাবে একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে এসে, গণপরিবহনের সংকট দূরীভূত করা যায় তা দেখতে।”

“আমরা বলছি ডিজিটাল বাংলাদেশ। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশে নতুন প্রযুক্তি এলে যদি নিরুৎসাহিত করি, তাহলে এটা দ্বিচারিতা। এটা স্ববিরোধী। ইতিমধ্যে বিআরটিএ একদফা বৈঠক করেছে। এ ব্যাপারে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান হবে। আর আমি সেটাই চাই।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত